মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক ইস্যু : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৯:১৫ এএম

রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক ইস্যু : প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের দমন অভিযানে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অনিশ্চয়তা যে আঞ্চলিক সংকটের মাত্রা পেতে যাচ্ছে, তা বিশ্বকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানালেন বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা।

শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, “এটি বাস্তবিকপক্ষেই দুঃখজনক যে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান না হওয়ায় আজ এই মহান সভায় এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে।”

২০১৭ সালের অগাস্টে রোহিঙ্গা জনস্রোত যখন নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে তার এক মাসের মাথায় এই জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সংকটের সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের ভাষণে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা এখন আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।

বাংলাদেশের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু, ক্রমবর্ধমান স্থান সংকট এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে এ এলাকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যবারের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেন।

এ বছরের সাধারণ বিতর্কের বিষয়বস্তু হল- দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিকরণে বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার উজ্জীবন।

নাইজেরিয়ার টিজানি মুহাম্মাদ-বান্দে ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি সমস্যার বোঝা বহন করে চলেছি যা মিয়নামারের তৈরি।
এটি সম্পূর্র্ণ মিয়ানমার এবং তার নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার একটি সমস্যা। তাদের নিজেদেরই এর সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

রোহিঙ্গাদের স্ব-ভূমে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে চারটি প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রস্তাবগুলো হল- রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে।

বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হতে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা জনস্রোত যখন নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে তার ১ মাসের মাথায় এ জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সংকটের সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমি এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাখাইন প্রদেশে বেসামরিক তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্টি ব্যক্ত করে বলেন, এটি বাস্তবিকপক্ষেই দুঃখজনক যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় আজ এ মহান সভায় এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে।

১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের আশ্রয়ে রয়েছেন। যারা হত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তার বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। দুই দফায় প্রত্যাবাসন শুরুর দিনক্ষণ ঠিক হলেও তা পিছিয়ে যায় সেখানে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের অনীহায়।

বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে, কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যাননি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলায় বিশেষ করে নিরাপদ অভিবাসন, উদ্বাস্তু সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, এসডিজি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামরত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসরদের পরিচালিত গণহত্যায় ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষ নিহত এবং দুই লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের গতিশীল নেতৃত্বের জন্য তার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম। জাতিসংঘের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন সর্বদা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী মোতায়েনে জাতিসংঘের আহ্বানে নিয়মিতভাবে সাড়া প্রদান করে আসছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী করে তুলতে জাতিসংঘ মহাসচিবের গৃহীত উদ্যোগের প্রতি আমরা সমর্থন ব্যক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘই আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ আশাই ব্যক্ত করেছিলেন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সদস্য স্বাধীন দেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত প্রথম বাংলায় ভাষণের উদ্ধৃতি প্রদান করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সদ্য সমাপ্ত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’র মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক যে কার্যক্রম গ্রহণের ঘোষণা এসেছে তা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অংশ হিসেবে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নকে আরও বেগবান করবে।

তিনি বলেন, অভিযোজন ও সহনশীলতার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ গ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশ জন্য এটি একটি অর্থ-প্রযুক্তিগত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এতে খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ পানি, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ সভার ঘোষণা অনুযায়ী আমরা ঢাকায় একটি ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর অ্যাডাপটেশন’ স্থাপনের জন্য কাজ করছি।

অভিবাসন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ, সুষ্ঠু ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার একটি বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এর মূলে রয়েছে জটিল ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র।

জাতীয় পর্যায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং মানব পাচারসংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি মানব পাচার বিষয়ক ‘পালেরমো প্রোটোকল’-এ যোগদান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারের গত ১০ বছরের বেশি সময়ের দেশ শাসনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিকও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আজকাল প্রায়শই ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বিশ্বে নানা অস্থিরতা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমাগত আর্থিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছর ধরে সমৃদ্ধি বজায় রেখেছে।

স্পেকটেটর ইনডেক্স ২০১৯ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ২৬টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ১০২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩০২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৯০৯ মার্কিন ডলার হয়েছে।

একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৯ গুণ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের লক্ষ্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে শেখ হাসিনা বলেন, এসডিজি অর্জনে আমাদের যে অঙ্গীকার ও যৌথ আকাঙ্ক্ষা তার প্রতিফলন ঘটেছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে।

যা আমাদের জনগণের আস্থা অর্জনে সাহায্য করেছে। যে কারণে আমরা টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে বলে উল্লেখ করে বলেন, ২০০৬ সালে আমাদের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ যা ২০১৮ সালে হ্রাস পেয়ে ২১ শতাংশ হয়েছে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে পেছনে ফেলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে সমাজের অনগ্রসর ও অরক্ষিত অংশের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে।

আমাদের জিডিপির ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশে নারী-পুরুষ সমতা ও বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তির মাইলফলক অর্জনের পর মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে মনোনিবেশ করেছে।

এ লক্ষ্যে ই-শিক্ষা ও যোগ্য শিক্ষক তৈরিতে গুরুত্ব প্রদান করায় বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার ৫০ শতাংশ থেকে হতে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

বছরের প্রথম দিনে সারা দেশের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়ার সরকারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগসহ শিক্ষার সম্প্রসারণে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে উপ-বৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রকার বৃত্তি দেয়ার তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি। যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মায়ের কাছে উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে সারা দেশে প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা এবং সেখান থেকে বিনামূল্যে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিতরণসহ প্রতিবন্ধী, অটিজম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ এবং হতদরিদ্রদের বিভিন্ন ভাতা এবং সহযোগিতা প্রদান এবং সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রায় সম্পৃক্ত করার বিশেষ পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে ৫ হাজার ৮০০ ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৬০০ সরকারি ই-সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি এবং টেলি-ঘনত্ব ৯৩ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি যা প্রত্যন্ত এলাকায় সম্প্রচার সেবা সম্প্রসারণ সহজতর করেছে এবং উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে।
সমুদ্রসীমার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান বাংলাদেশের জন্য ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুরে আমাদের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি।

ইতিমধ্যে ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি ২৬তম দেশ হিসেবে ‘ট্রিটি অন দ্য প্রহিবিশিন অব নিউক্লিয়ার উইপন্স’ অনুস্বাক্ষর করেছি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আগামী বছর জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মানব সভ্যতার জন্য একটি শক্তিশালী জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান, যেন তা আগামী শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হয়।