শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

আমি বদলে দিতে এসেছি : ভূমিমন্ত্রী

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার, ১০:২৩ পিএম

আমি বদলে দিতে এসেছি : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, আমি বদলে দিতে এসেছি। ইনশাআল্লাহ বদলে দেবই। আমার দাদা, বাবার একটা ফ্যামেলি ট্রেন্ড আছে। বাবা সফল রাজনীতিক, সফল ব্যবসায়ী। দাদার সময় থেকে আমরা জনগণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাবা তো সবসময় এলাকার মানুষের সাথে মিশে থাকতেন।  এলাকার মানুষের সুখ দু:খ ভালবাসা ভাগাভাগি করে বড় হয়েছি। ফ্যামেলি ট্রেন্ড ধরে রেখে সর্বদা এলাকার মানুষের পাশে আছি। পাশাপাশি দেশের মন্ত্রী হিসাবে ভূমি মন্ত্রণালয়কে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব করতে কাজ করে যাচ্ছি।

শনিবার রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নানা পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি। তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসন থেকে তিন দফায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এক সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তরুণ প্রজন্মের এই নেতা।

তাঁর কথায় উঠে আসে খাস জমি নিযে নতুন আইন, হটলাইন ও সিসিটিভি চালু, খাস জমির ডাটা ব্যাংক, রাজনৈতিক, পারিবারিক নানা ইস্যু।

আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরীর বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন,   ছোট বেলা থেকে বাবার মত হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। এখন এমপি, মন্ত্রী হয়েছি সত্যি। বাবার মত হতে পারিনি। তিনি ছিলেন গণমানুষের হৃদয়ের নেতা। মানুষের সঙ্গে একাকার হয়ে থাকতেন সবসময়। বাবা অনেক বড় মাপের মানুষ। উনার মত হওয়ার সম্ভব না। উনার কাছাকাছিও যদি হতে পারি তাহলে বাবার আত্মা শান্তি পাবে।

নিজের সন্তানদের রাজনীতিতে নিয়ে আসবেন কিনা এমন প্রশ্নে বলেন, কেন নয় ? দাদা, বাবা জনগণের সেবা করেছেন। আমিও জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। টাকা পয়সা অনেকে কামাতে পারেন। জনগণের সেবা তকদিরের বিষয়। সেটা সবার ভাগ্যে হয় না। আমার সন্তানেরা এখনো ছোট। তবে আমার বড় মেয়ের মধ্যে এক ধরণের ঝোঁক আছে। সময়েরই তা বলে দেবে। স্বাভাবিকভাবে আমি চাইব আমার সন্তানেরাও জনগণের সেবা করুক।

ভূমি মন্ত্রণালয়ে সংস্কার প্রসঙ্গে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে সত্যিকার অর্থে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হযেছে টপ ফাইভ। সেই পথেই হাঁটছি। ইনশাআল্লাহ সফল হবো।

অনুষ্ঠানে এক অতিথি অভিযোগ করেন খাস জমির দখল-বেদখল নিয়ে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা হযেছে। ভবিষ্যতে সরকার আরো কঠিন অবস্থানে যাচ্ছে। খাস জমি দখল করলে সেটা হবে `ক্রিমিনাল অফেন্স‘ । এ সংক্রান্ত আইন তৈরির কাজ চলছে। তখন কেউ চাইলে খাস জমি দখল করার সাহস পাবে না।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ভূমি মন্ত্রণালযে হটলাইন চালু হয়ে যাবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে `রিনোভেশন‘ কাজ চলছে। তাই হটলাইন চালু করতে একটু সময় লাগছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তা হয়ে যাবে বলে আশাবাদী। তখন ভূমি সংক্রান্ত যেকোন সমস্যা, হযরানি হটলাইনে জানানো যাবে।

এছাড়া ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট চালুর কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনলাইনেও যেকোন অভিযোগ জানানো যাবে। অপটিকেল ফাইবারের জন্য দেশব্যাপী ভূমি অফিসগুলোতে সিসিটিভি লাগানো কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। সেটাও দ্রুত করার কাজ চলছে।

ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে বলেন, এখানে ভূমি মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়কে এক সাথে হাঁটতে হচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ। তারপরও সবার আশাতীত সহযোগিতা পাচ্ছি।

ভূমি মন্ত্রণালযের অধীন কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিষয়টি কতদূর ? এই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তহশিলদার থেকে নীচের দিকে যারা আছেন তারা সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী। ইতিমধ্যে তারা সবাই হিসাব দিয়েছেন। এসি ল্যান্ড জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ । তাদের বিষযটিও প্রক্রিয়াধীন আছে। আমরা এখন পর্যন্ত হিসাবই নিয়েছি। মনিটরিং কাজ শুরু করিনি। আর নিযমিত হিসাব নিতে থাকলে এসব রাখার জন্য সেটা বিশাল কক্ষের প্রয়োজন হবে। সেটা সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিক কিছু কাজ এখনো বাকী। সেই কাজগুলো শেষ করে এটাতে হাত দেব।

তিনি বলেন, আরো কিছু সংস্কার নিয়ে চিন্তা আছে। এসি ল্যান্ড ও তহশিলদারের মাঝখানে আরেকটি পদ করা যায কিনা সে চিন্তাও আছে। তবে বললে তো আর সব হয়ে যায় না।  আরো অনেক বিষয় জড়িত। পর্যায়ক্রমে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।   

তিনি বলেন, ভূমি সুরক্ষার একটি পরিকল্পনাও সরকারের আছে। তিন ফসলি জমিতে কোন ঘরবাড়ি করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এসব দেখভালে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদকে দায়িত্ব দিয়ে রাখব। যাতে ইচ্ছামত ফসলি জমিতে কেউ বাড়িঘর করতে না পারে।

নিজের জমি সম্পত্তি বাড়ানোর ব্যাপারে মন্ত্রীর আগ্রহ কতটুকু-এমন প্রশ্নে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ হেসে বলেন, জমি, সম্পত্তি এসব নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। এক সময় সবকিছু দাদা দেখেতেন। আর মন্ত্রী হওয়ার পর আমি তো বলেই দিয়েছি আমি নতুন করে কোন জমি কিনব না। যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে।

ভূমি সংক্রান্ত মামলার জট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত টুনকো বিষয় নিয়েও ভূমি সংক্রান্ত মামলা হয়ে যায়। কেউ কাউকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নাই। আমরা চাইছি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার। অর্পিত সম্পত্তির ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি ভোগান্তি কমে আসবে।