বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

চট্টগ্রামে নতুন এসাইনমেন্টে দেবী শেঠি

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০১৯ শনিবার, ১০:১৪ পিএম

চট্টগ্রামে নতুন এসাইনমেন্টে দেবী শেঠি

চট্টগ্রামে নতুন এসাইনমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বিশ্বখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী। শনিবার (১৫ জুন)সকালে নারায়ণা হেলথের চেয়ারম্যান ডা. শেঠী শনিবার সকালে পাহাড়তলীতে নব প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভালো চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে রোগীরা ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। বিদেশ যাওয়া রোগীদের এই সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। সঠিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নতুন সংযোজনের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমানোই আমার প্রথম লক্ষ্য। ইম্পেরেয়াল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ফলে এ প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে তিনি মনে করেন।

নয়শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় সাত একর জমির উপর পাঁচটি ভবন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ইমপেরিয়াল হসপিটালের  মোট আয়তন ছয় লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট। ভারতের নারায়ণা হেলথ এবং ইমপেরিয়াল যৌথভাবে এই হাসপাতালের কার্ডিয়াক সেন্টারটি পরিচালনা করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী প্রসাদ শেঠী বলেন, এই হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে। এটি বাংলাদেশে সঠিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নতুন সংযোজন। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে রোগীদের বিদেশ যাওয়া কমানোই লক্ষ্য। চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশি পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে যাচ্ছেন। যা সবদিক থেকে ক্ষতি। কিন্তু আমি এদেশে এসেছি একটি মিশন নিয়ে, সেটি হচ্ছে বাংলাদেশে থেকে বিদেশে রোগী যাওয়া বন্ধ করা। আমি চাই না বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাক।

তিনি বলেন, ভালো চিকিৎসার জন্য ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ফলে এ প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, আমেরিকার চেয়ে এ উপমহাদেশের চিকিৎসক-নার্সরা অনেক প্রতিভাবান। তারা খুবই পরিশ্রমী। সেটি অবশ্যই ইতিবাচক। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। নিজস্ব চিকিৎসক-নার্সরা রয়েছেন। যেটি অন্যান্য হাসপাতাল থেকে এই হাসপাতালকে দিয়েছে আলাদা বিশেষত্ব।

ডা. দেবী শেঠী বলেন, এ হাসপাতাল বাংলাদেশে সঠিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নতুন সংযোজন। এটি প্রতিষ্ঠার ফলে বিদেশে বাংলাদেশি রোগী যাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।

চট্টগ্রামে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন দেবী শেঠী। ইমপেরিয়াল হাসপাতালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইমপেরিয়াল হাসপাতালে আমাদের নারায়ণা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে। মাঝে মধ্যে আমিও আসব। আশা করি এখানকার মানুষ আধুনিক চিকিৎসা পাবে।’

ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. রবিউল হোসেন বলেন, ইম্পেরিয়াল-নারায়ণা কার্ডিয়াক সেন্টারটি ডা. দেবী প্রসাদ শেঠীর তত্ত্বাবধানে পরিচালনা হবে। ভারতের নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের চিকিৎসক-নার্সরা এখানে সেবা দেবেন। পুরো সেন্টারটি তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। ইতোমধ্যে সব ধরনের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে।

স্বাগত বক্তব্যে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল (আইএইচএল)’র বোর্ড চেয়ারম্যান ও চিটাগাং আই ইনফারমারি এন্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স (সিইআইটিসি) ম্যানেজিং ট্রাস্ট্রি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, উন্নতমানের স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতায় বিপুলসংখ্যক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তাদেরকে আর্থিক, শারীরিক এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। এমন অবস্থা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে উন্নত বিশ্বের আলোকে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাঁর বক্তব্যে এদেশের জনগনের ও রোগীদের পক্ষ থেকে ডা. দেবী প্রসাদ শেঠীকে ইম্পেরিয়াল হাসাপাতালের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এই হাসপাতাল বিশ্বমানের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন বলেন, বিশ্বের খ্যাতনামা চিকিৎসকদেরও এই হাসপাতালের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। আমরা এখানে সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি এখানে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। শুধু মুনাফা অর্জনই নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের স্বাস্থ্যখাতের অভাব ঘোচাতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভারতের বিখ্যাত নারায়ণা হেলথ এবং ইম্পেরিয়াল যৌথভাবে কার্ডিয়াক সেন্টার পরিচালনা করবে এবং ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল জৈব বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য সরকারী নীতিমালা অনুসরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

এই হাসপাতালে যুগান্তকারী হৃদরোগ চিকিৎসার পাশাপাশি এখানে অন্যান্য রোগেরও বিশ্বমানের সেবা মিলবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানে থাকছে উন্নতমানের সার্বক্ষণিক ইমার্জেন্সি সেবা এবং কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্ ইত্যাদি সম্বলিত ১৪টি মডিউলার অপারেশান থিয়েটার। আছে ১৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনস্যালটেন্ট রুম সম্বলিত বহির্বিভাগ এবং আধুনিক গুণগত মানসম্পন্ন ৬৪টি ক্রিটিকাল কেয়ার বেড। নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যাবিশিষ্ট নিওনেটাল ইউনিট এবং ৮টি পেডিয়াট্রিক আই সি ইউ। রোগী ও তার সাথে আগত স্বজনদের জন্য হাসপাতাল পরিধির মাঝে থাকার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত আছে। হাসপাতালে ৮৮টি সিঙ্গেল, ৭৬টি ডাবল কেবিন, ৮টি পেডিয়াট্রিক আই সি ইউ, রোগীর স্বজনদের থাকার জন্য ৪০টি রুম এবং ২৭১ জন থাকার ডরমেটরি রয়েছে বলে জানান হাসপাতালের ডিরেক্টর (স্ট্র্যাটেজিক কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন ।