বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

চট্টগ্রামে ফেলের গোলকধাঁধায় গণিত ও ইংরেজি

ইসমত মর্জিদা ইতি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৬ মে ২০১৯ সোমবার, ০৮:০০ পিএম

চট্টগ্রামে ফেলের গোলকধাঁধায় গণিত ও ইংরেজি

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছে ৩২ হাজার ৭৫৫ জন। তারপরও হিসেবে গতবছরের তুলনায় পাসের হার বেড়েছে। তবে  কমেছে জিপিএ-৫। শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তাদের অভিমত জিপিএ-৫ কমার পিছনে বাংলা, ইংরেজি, গনিত, বিজ্ঞান ও ফিন্যান্সে আশানুরুপ ফলাফল হয়নি। তবে কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাসের হার বেড়ে[ছে গতবছরের তুলনায়। কমেছে মহানগরে পাসের হার।

বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন মূল পাঠ্যবই না পড়ায় শিক্ষার্থীরা এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রশ্নোত্তর ভালো করতে পারেনি। গতবছর  চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে  এসএসসিতে পাসের হার ছিলো ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৮ হাজার ৯৪ জন। আর এ বছর পাসের হার ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ  ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৩৯৩ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান জানান, মূলত গণিত ও ইংরেজিতে খারাপ হওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে পাসের হার বাংলায় বাড়লেও জিপিএ কমে গেছে এই বিষয়ে। এর কারন বলতে গিয়ে তিনি জানান, বাংলায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এমসিকিউ প্রশ্নোত্তরে ভালো করতে পারেনি। এর কারন মূল পাঠ্যবই না পড়ে গাইডবই প্রীতি। পুরো বই খুঁটিয়ে না পড়ায় শিক্ষার্থীরা শতভাগ উত্তর দিতে পারেনি।

এবার পাসের হার ৭৮.১১ শতাংশের মধ্যে ছাত্র পাসের হার ৭৮.৪৩ এবং ছাত্রী পাসের হার ৭৭.৮৩ শতাংশ। ফলে পাসের দিক থেকে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা ০.৬০ শতাংশ এগিয়ে আছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরো জানান, ‘তিন পার্বত্য জেলায় পাসের হার বাড়লেও চট্টগ্রাম নগরে এবার পাসের হার ০.৬১ শতাংশ কমেছে।’

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবছর বাংলা ১ম পত্রে পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৪ শতাংশ, বাংলা ২য় পত্রে ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ইংরেজি ১ম পত্রে ৯৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, ইংরেজি ২য় পত্রে ৮৯ দশমিক ৭০ শতাংশ,  গণিতে ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বোর্ড কর্মকর্তরা বলছেন, মূলত গণিত ও ইংরেজি ২য় পত্রে পাসের হার কম হওয়ার পরও গতবছরের তুলনায় পাসের হার বেড়েছে। তবে জিপিএ-৫ কমেছে যে কয়েকটি বিষয়ের কারনে সেই তালিকায় রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিশ্ব পরিচয়, বিজ্ঞান ও ফিন্যান্স।

এদিকে ২০১৮ সালে বাংলায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ১০ হাজার ২২৯ জন। ২০১৯ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৮১ জনে। ইংরেজিতে গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৯ হাজার ৯৮৩ জন। আর তা এবছরে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫২৩ জনে। গণিতে গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ১৩ হাজার ৪৮৭ জন। এবছর পেয়েছে ৮৭১২ জন। বিজ্ঞান বিষয়ে গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৬ হাজার ২৩০ জন। এবছর পেয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ জন। ফিন্যান্সে গতবছর জিপিএ-৫ পেয়ছিলো ৩ হাজার ১৭২ জন। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ জন। ।

বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের মধ্যে বিজ্ঞানে গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৭ হাজার ২৮৫ জন। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৯৫৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮৩ জন আর এবছর পেয়েছে ৪১২ জন। মানবিকে জিপিএ-৫ গতবছর পেয়েছে ২৬ জন। আর এ বছর পেয়েছে ২৭ জন।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে শিক্ষক, পাঠ্যবই, অবকাঠামোগত নানা সংকটের কারনে মাধ্যমিক স্তরের গণিত ও ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান শাখায় শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। তিনি একাই পড়ান পদার্থ, রসায়ন ও গণিত। এই বিদ্যালয়ে নেই কোনো বিজ্ঞান গবেষণার।

শিক্ষার্থীদের  অভিমত, ইংরেজি ক্লাসে পড়া ঠিকমতো বোঝা যায়না।  পাঠ্যবইটাও জটিল মনে হয়।  বাধ্য হয়েই তারা গাইড বইয়ের দিকে ঝুঁকে থাকে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান  শিক্ষক মঈনুল আবেদিন নাজিম জানান, শিক্ষক নিজেই যখন সৃজনশীল বুঝে না, তখন তিনি কী করে সৃজনশীল বুঝাবেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাই ছুটছেন গাইড বইয়ের দিকে।

তিনি আরো জানান,, তার স্কুলে শিক্ষক আছেন ৩০ জন। সৃজণশীল প্রশিক্ষন পেয়েছেন ৫ জন। প্রশিক্ষনবিহীন শিক্ষক কিভাবে সৃজনশীল বিষয় পড়াতে হয় প্রশিক্ষপ্রাপ্ত শিক্ষকদেও কাছ থেকে ধারনা নিয়ে। আর এ জন্যই ইংরেজি ও গণিতের ফলাফলে গোল বেঁধে যায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬  চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ছিলো ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৮ হাজার ৫০২ জন। কিন্তু সেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ এ চট্টগ্রামে ২০১৭ সালে আসে  বিপর্যয়। কমে পাসের হার ও জিপিএ-৫।  ২০১৮ সালে সেটি ছিলো আরো নিম্মমুখি। গতবছর  চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে  এসএসসিতে পাসের হার ছিলো ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৮ হাজার ৯৪ জন। আর এ বছর পাসের হার ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ  ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৩৯৩ জন।