রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে ঐতিহ্যের পিঠা-পুলি

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ১০:২৩ পিএম

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে ঐতিহ্যের পিঠা-পুলি

নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক জোট ও দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে যোগ দিয়েছিল সেসব দলের নেতাদের সম্মানে গণভবনে চা-চক্রের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), জাসদ (আম্বিয়া), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, তরীকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের দক্ষিণ লনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে আসেন এবং নেতাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। সেই সঙ্গে তিনি অতিথিদের টেবিলে যান এবং তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।গণভবনের দক্ষিণ লনের সবুজ চত্বরে এ চা-চক্র অনুষ্ঠিত হয়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারে রাজনৈতিক নেতাদের আপ্যায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  খাবারের তালিকায় স্থান পায় বিভিন্ন মৌসুমী ফল, ফলের জুস, চা-কফি ইত্যাদি। আবহমান বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য দিয়ে খবার টেবিল সাজানোর পাশাপাশি বাজানো হয় দেশের গান। অতিথিদের ফুচকা, চটপটি, পাঠিসাপটা পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, জিলাপি, কাবাব-রুটি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল সেই দল ও জোটের নেতাদের সম্মানে চা-চক্রের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের দক্ষিণ লনের সবুজ চত্বরে এ চা চক্র অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গণভবনে হাজির হন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতারা। তাদের উপস্থিতিতে যেন রাজনৈতিক নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ চা-চক্র।

চা-চক্রে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমুর হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মতিন খসরুও নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বিরোধী দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, জাপা নেতা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন বাবলু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, সুনীল শুভ রায়, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাসদ (আম্বিয়া) নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদল, নাজমুল হক প্রধান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা প্রমুখ যোগ দেন চা-চক্রে।

এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মিসবাহুর রহমান চৌধুরী, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, সাম্যবাদী দলের সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদোজ্জা চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) এমএ মান্নান, মাহী বি চৌধুরী এবং শমশের মুবীন চৌধুরী, বিএনএফ প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা , ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মান্নান, এমএ মতিন, সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চা-চক্র শেষে গণভবন থেকে বের হয়ে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘যাদের সঙ্গে পরিচয় ছিল তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করে নেওয়া এবং যাদের সঙ্গে কম পরিচয় ছিল, তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া আজকের চা–চক্রের মূল বিষয় ছিল। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই চা-চক্রের উদ্দেশ্য ছিল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা খোলামেলা মনে আলোচনা করেছেন। আমি মনে করি এটা ভবিষ্যতে রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘এটা শুধু চা–চক্র। ইনফরমাল ওয়েতে আমরা একজন আরেকজনের সঙ্গে মিশেছি। সৌহার্দ্যের যে বন্ধন সেটা আরও দৃঢ় হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, যেখানে তাঁর নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না, এ রকম কোনো একটি জায়গায়। ওই দিনের দাওয়াতে আজকে যাঁরা ছিলেন সবাই থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত কবুল করেছেন।