বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

টানেল : ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চায় এলাকার মানুষ

প্রতিনিধি, আনোয়ারা

প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৮:৪১ পিএম

টানেল : ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চায় এলাকার মানুষ

আনোয়ারা বৈরাগ এলাকায় টানেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষব্ধ এলাকাবাসী। শনিবার বিকালে একজোট হয়ে কয়েকশ’ মানুষ  বৈরাগ কান্তিরহাট ও বন্দর হিন্দুপাড়া এলাকায় দু’টি পয়েন্টে কাজ বন্ধ করে দেয়। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে আজ রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালযের সামনে মানবন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থরা।

স্থানীয় সুত্র জানায়, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচের কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে চারলেনের ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগেই। এই সংযোগ সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের বেশ কিছু বসতভিটা, ফসলি জমি। টানেলের জন্য দু’পাড়ে প্রায় ৩৮৪ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩২ একর ভূমি ঠিকাদারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন এন্ড কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ১৫২ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এলএনজি সরবরাহের জন্য নির্মিত পাইপ লাইনের জন্য সংযোগ সড়কের নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ একর ভূমি বাড়তি হুকুম দখল করতে হচ্ছে। এই পৌনে দুইশ’ একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিলতা।

স্থানীয় সমাজসেবী, মুক্তিযোদ্ধা লেয়াকত আলী চৌধুরী জানান, টানেল প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে ৩ শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ নিয়ে তারা পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। অধিগ্রহণকৃতি জমির জন্য ৩ গুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও এখানে সেটা খোলাসা করা হচ্ছে না। কোন জমির জন্য দেড় গুণ আবার কোথাও তিনগুণ দেওয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে। একই জমির জন্য দুই ধরেণের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে সেটা হবে বড় ধরণের বৈষম্য।
তিনি বলেন, এখানে জমির দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। মৌজা রেটের ৩ গুণ ক্ষতিপূরণ দিলেও সেই টাকায় এখানে জমি পাওয়া যাবে না। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু বলা হচ্ছে না ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে।            

জানা যায়, বৈরাগ, বন্দর চাতরী, মাঝের চরসহ যেসব এলাকায় "কর্ণফুলী টানেল"  প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের তালিকা করা হয়েছে সেগুলোর বর্তমান বাজারদর প্রতি শতক (এক গন্ডায় দুই শতক) ৩/৪ লাখ টাকা। কিন্তু মৌজা রেটে দেখা যায়, বৈরাগে নাল জমি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, বসতভিটা ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, বেলচুড়ায় জমি ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা, বন্দরে জমি ১ লাখ ৮ হাজার টাকা, ভিটা ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, পশ্চিমচালে জমি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা, ভিটা ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা নির্ধারিত আছে। ফলে ৩ গুণের কম ক্ষতিপূরণ দিলে স্বাভাবিভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এলাকাবাসীকে। এই অবস্থায় উপযুক্ত ক্ষতি পূরণের দাবিতে শনিবার রাস্তায় নেমে আসে এলাকার মানুষ।

স্থানীয় বন্দর এলাকার বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক নিধির সিংহ জানান, রাস্তার কাজ শুরু হয়ে গেছে। এখনও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হয়নি। ক্ষতিপূরণের কোন টাকাও দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে হঠাৎ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করে দিয়েছে।

দক্ষিণ বন্দর জেলে পাড়ার বাসিন্দা গোপাল ভৌমিক জানান, উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও ক্ষতিপূরণ নিযে কিছুই বলা হচ্ছে না। তিনি বলেন , বৈরাগ এলাকার মানুষ বার বার শুধু দিয়েই যাচ্ছে। কেইপিজেডের সময় একবার উচ্ছেদ হয়েছে, কাফকো কলোনির জন্য দ্বিতীয়বার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এভাবে আর কত ?

বৈরাগ এলাকার বাসিন্দা রফিক আহমদ খান জানান, ক্ষতিপূরণের টাকার প্রক্রিয়াযও জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায় পদে পদে হয়রানি করা হচ্ছে। আবেদনের জন্য ২০০ টাকা, কম্পিউটারে ডাটাবেজের জন্য ৪০০ টাকা এভাবে নানা কথা বলে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এম.এ রশিদ বলেন, জায়গা জমি ও বসতভিটার ক্ষতিপূরণের দাবীতে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আমাদেরকে যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমরা মেনে নিবো। টানেল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তারা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে আমাদেরকে জানাবে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আজ রোববার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ক্ষতিগ্রস্থরা মানবন্ধন করবে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও এলএ শাখার হয়রানি বন্ধে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।