বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

কী হয়েছিল আইয়ুব বাচ্চুর ?

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:৩০ পিএম

কী হয়েছিল আইয়ুব বাচ্চুর ?

মাত্র ৫৬ বছর বয়স । গানের ফেরিওয়ালা হয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। তখনও বিদেশেও। দেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা সেই আইয়ুব বাচ্চু কিনা চলে গেলেন একেবারে হঠাৎ করে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাস ভবন থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে স্কয়ার হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্তানদের কাছ থেকে শেষ বিদায় নেওয়ার জন্যই যেন অপেক্ষা তার।

কী হয়েছিল আইয়ুব বাচ্চু ? মৃত্যুর পর তাঁর লাখো ভক্তের মনে এখন এই একটাই প্রশ্ন।

তার অসুস্থতার কোনো আগাম খবর ছিলো না। সুস্থ ছিলেন। গান নিয়ে নিজের মতো মেতেছিলেন জীবনের শেষদিনগুলোতে। কিছু পরিকল্পনাও করছিলেন তরুণদের ব্যান্ডের প্রতি আগ্রহী করার জন্য। মাত্র দুদিন আগেও রংপুরে কনসার্ট করে এসেছেন তিনি।

সব থেমে গেল! বৃহস্পতিবারের সকালটি এদেশের সঙ্গীতাঙ্গন তথা শোবিজের জন্য হয়ে গেল শোকের সাগরে ভেসে যাওয়ার সকাল। একেবারেই নিরবে নিরবে চলে গেলেন ব্যান্ড লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু।
স্কয়ার হাসপাতালের সার্ভিস বিভাগের পরিচাল ড. মির্জা নাজিমুদ্দিন জানালেন, আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৮টার দিকে তার নিজ বাসাতেই। উনি হার্টের রোগী। তার হার্টের রিদমটা কমে গিয়েছিলো শেষদিকে। সেই রিদম হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে আজ সকালে তিনি মারা যান।

তিনি বলেন, মৃত অবস্থাতেই তাকে তার ড্রাইভার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে নিয়ে পৌঁছানো হয় ৯টা ১৫ মিনিটে। ডাক্তাররা তাকে ৯টা ৫৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞান অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় আইয়ুব বাচ্চুকে। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা কৃত্রিমভাবে কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর (কোনো কারণে যখন হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সাময়িকভাবে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কাজ কিছু সময় চালিয়ে মস্তিষ্কে রক্ত এবং অক্সিজেন সরবরাহ করা) এর মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।

স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল বিভাগের পরিচালক ডা. মির্জা নাজিমুদ্দীন জানান, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো তার হার্টে রিং পরানো হয়। তবে সম্প্রতি তিনি ঘনঘন হৃদরোগে ভুগছিলেন। দুই সপ্তাহ আগেও তিনি শরীর চেকআপ করাতে হাসপাতালে এসেছিলেন।

ডা. নাজিমুদ্দীন বলেন, সম্প্রতি তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় কার্ডিওমায়োপ্যাথি। হাসপাতালে আনার সময় কার্যকারিতা শূন্যের ঘরে চলে আসে। আর এতেই তার মৃত্যু হয়।

সম্প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী রুবের। সকাল থেকে রাত, যার সঙ্গে মিশে থাকতেন তার না থাকার শূন্যতাকে মানতেই পারছেন না রুবেল। স্কয়ার হাসপাতালে অনবরত কান্না করেই যাচ্ছেন তিনি। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘আমি বুঝতেই পারছি না নিজেকে কীভাবে শান্ত রাখবো। উনি আমার অভিবাবক, উনি আমার বাবার মতো ছিলেন। কতো মানুষ স্বপ্ন দেখেছে আইয়ুব বাচ্চুকে এক নজর দেখবে বলে। আর তিনি আমাকে তার সঙ্গী করে নিয়েছিলেন। কত আদর, স্নেহ দিয়েছেন তিনি আমাকে। সেই তিনি আমার কোলেই ঢলে পড়লেন’

রুবেল আরও বলেন, ‘বাচ্চু ভাই রংপুরে শো করেছেন ১৬ তারিখ। তখন থেকেই বলছিলেন শরীরটা ভালো লাগছে না। তবে এমন খারাপ কিছু সেটা হয়তো তিনিও আন্দাজ করেননি। আজ সকালে হঠাৎ আমাকে ডাকলেন। বললেন শরীরটা খুব খারাপ লাগছে। হাসপাতালে যাওয়া দরকার। বলতে বলতেই দেখি পড়ে যাচ্ছেন তিনি। ধরতে গেলাম আমার কোলে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরলেন। চুপচাপ। মুখে ফেনা বের হচ্ছিলো। তারপর ধরে ভাইকে নিয়ে হাসপাতাল আসি। ডাক্তাররা বলছেন, বাচ্চু ভাই বাসাতেই মারা গেছিলেন।’