ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮

আন্দোলনে কলকাতার সিরিয়ালের শিল্পীরা

সারাবেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ১০:১০ পিএম

আন্দোলনে কলকাতার সিরিয়ালের শিল্পীরা

বাংলাদেশে কলকাতার সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা তুমুল। সন্ধ্যা হলেই এদেশের ঘরে ঘরে রিমোট হাতে অনেকেই বসে পড়েন সিরিয়াল দেখতে। আর যারা কলকাতার সিরিয়ালের ভক্ত তাদের জন্য দুঃসংবাদ, সিরিয়ালের শুটিং বন্ধ করে দিয়েছেন সেখানকার শিল্পীরা।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ‘কলকাতার সিরিয়ালের টেকনিশিয়ান ও শিল্পীরা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের ক্ষোভ শুটিংয়ের সময় নির্ধারণ না করা।’জানা গেছে, মাঝরাতে শুটিং করে আবার ভোরে শুটিংয়ের চাপ দেয়ার কারণে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান তারা। কিন্তু প্রযোজকরা বৈঠকে বসতে গড়িমসি করায় সোমবার সকাল থেকে শুটিং বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

দীর্ঘদিন তাঁদের মাঝে যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল, তা এবার সামনে চলে এসেছে। যাঁরা এত দিন কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটা শব্দও বলতে সাহস করেননি, তাঁরা এখন সেই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন। শিল্পীদের পক্ষ থেকে কথা বলছে তাঁদের সংগঠন আর্টিস্ট ফোরাম। সঙ্গে আছে পশ্চিমবঙ্গ টেলি একাডেমি এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের ফেডারেশন।

জানা গেছে, ভারতের বাংলা সিরিয়ালের শিল্পীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজের কোনো নির্ধারিত সময় না থাকা, প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা শুটিংয়ে বাধ্য করা, সারা মাসই শুটিং করা, কোনো পূর্ব ঘোষণা কিংবা আলোচনা ছাড়াই শিল্পীকে দিয়ে সারা রাত কাজ করানো, শিল্পীদের পারিশ্রমিক বা সম্মানী না বাড়ানো, নির্ধারিত সময়ে পারিশ্রমিক বা সম্মানী না দেওয়া, সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা। এসব দাবির ব্যাপারে শিল্পীরা অনেক দিন ধরেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে বসেছেন। তবে এবার নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য শিল্পীরা সবাই জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করছেন। এসব দাবি আদায়ের ব্যাপারে এবার মুখ্য ভূমিকা রাখছে আর্টিস্ট ফোরাম।

এরই মধ্যে ভারতের বাংলা সিরিয়ালের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন আর্টিস্ট ফোরাম থেকে শিল্পীদের দাবিগুলো লিখিত আকারে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠানো হয়েছে। এখানে শিল্পীদের আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কোনো শিল্পীকে দিয়ে দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি শুটিং করানো যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে শিল্পীকে দিয়ে আরও চার ঘণ্টা বাড়তি কাজ করিয়ে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে শিল্পীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে শিল্পীকে ঘণ্টাপিছু বাড়তি পারিশ্রমিক দিতে হবে। প্রতিদিন রাত ১০টার মধ্যে শুটিং শেষ করতে হবে। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে একজন শিল্পীকে দিয়ে মাসে সর্বোচ্চ সাত দিন রাতে শুটিং করানো যাবে। কোনো শিল্পী মাসে ২৩ দিনের বেশি শুটিং করবেন না। শিল্পীদের পারিশ্রমিক পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।

আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শুটিংয়ের নামে শিল্পীদের দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করানো হচ্ছে। এমনকি প্রায় প্রতিদিনই একজন শিল্পী ভোর তিনটা কিংবা চারটা পর্যন্ত কাজ করছেন। কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো শিল্পীদের পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। যে যেভাবে পারছে, শিল্পীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। ফলে এখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আর্টিস্ট ফোরাম এবার উদ্যোগ নিয়েছে।’

এদিকে শিল্পীরা যেই ধর্মঘট শুরু করেছেন, সেটা দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বে ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল। বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলোতে চলমান সিরিয়ালগুলোর কাজ আটকে গেলে প্রযোজক ও চ্যানেলগুলো বিরাট ক্ষতিগ্রস্থ হবে। দু’একদিনের মধ্যে প্রযোজকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে শিল্পীদের সংগঠন। এই বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সহসা সমস্যার সমাধান না হলে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ পুরনো পর্ব প্রচার করবে বলে জানিয়েছে।