শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

মানসিক সমস্যার কারণে পলাশকে ডিভোর্স দিয়েছি : শিমলা

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৮:০০ পিএম

মানসিক সমস্যার কারণে পলাশকে ডিভোর্স দিয়েছি : শিমলা

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে কমান্ডো অভিযানে নিহত মো. পলাশ আহমদকে শনাক্ত করেছেন তাঁর বাবা। পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে।

পরিবারের সঙ্গে প্রায় সম্পর্কহীন পলাশের কর্মকাণ্ড নিয়েও নানা কথা উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। চিত্রনায়িকা শিমলার সঙ্গে তার বিয়ে ও জাতীয় পুরস্কার জয়ী এই অভিনেত্রীকে ঘিরে চলছে নানা আলোচনা।  এ অবস্থায় শিমলার কোন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছিল না।

ঘটনার একদিন পর বেসরকারী টিভি চ্যানেল জিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিমলা বলেছেন চারমাস আগেই তিনি পলাশকে তালাক দিয়েছেন। তার মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেলার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী একটি ফ্লাইট ছিনতাই চেষ্টার পর কমান্ডো অপারেশনে নিহত হন পলাশ আহমদ ওরফে মাহি বি জাহান  নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে চিত্রনায়িকা সিমলার স্বামী বলে দাবি করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শিমলা সঙ্গে এই এক্সক্লুসিভ কথা হয়।

কমান্ডোদের হাতে নিহত হওয়ার আগে পলাশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। পরে তিনি স্ত্রী শিমলার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকারে শিমলাপলাশের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগেই শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন। তিনি জানান ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তার নিজের অভিনীত একটি চলচ্চিত্রের পরিচালকের বাসার একটি অনুষ্ঠানে প্রথম পরিচয়। এরপর তারা সম্পর্কে জড়িয়ে যান। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। পরে বছরের শেষ দিকে ৬ নভেম্বর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
কেন বিবাহ বিচ্ছেদ সে প্রশ্নের জবাবে সিমলা বলেন, কিছু সমস্যা ছিলো বিধায়ই ডিভোর্স হয়েছে। তার মানসিক সমস্যাই এর মূল কারণ।

মাহি বি জাহান পলাশকে  কবর নামের একটি শর্ট ফিল্মের প্রযোজক হিসেবেই চিনতাম, বলেন সিমলা।

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সে যা করেছে তা অস্বাভাবিক। দেশের জন্য দুঃখজনক ও লজ্জার। এ জন্য যদি প্রয়োজন হয়, আমি দেশের জন্য যে কোনও কিছু ফেস করতে রাজি।’
পলাশের বাবা যা বললেন :

সোমবার নারায়নগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে কথা বলে তার পিতা পিয়ার জাহান সরদার।   পরিবারের সঙ্গে প্রায় সম্পর্কহীন পলাশের কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন পিয়ার জাহান। তিনি জানান, তাঁর ছেলে ‘বেয়াড়া’ স্বভাবের ছিলেন। দুবাই যাওয়ার কথা বলে গত শুক্রবার বাড়ি ছাড়েন পলাশ।

দুধঘাটা গ্রামের পলাশদের একতলা কংক্রিটের বাড়িটি ঘিরে শত শত মানুষের জটলা। এরই মধ্যে কথা হয় পিয়ার জাহান সরদারের সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। এখন দেশে একটি মুদি দোকান করেছেন। তাঁর স্ত্রী রেণু বেগম। পিয়ার জাহান-রেণু দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে পলাশ দ্বিতীয়। একটাই ছেলে তাঁদের। বাকি তিনজন মেয়ে।

পেয়ার জাহান বলেন, গতকাল রাতেই তিনি ছেলের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যান। গভীর রাতে পুলিশ ছবি নিয়ে আসে। তখন তিনি আরও নিশ্চিত হন।

পিয়ার জাহান জানান, স্থানীয় তাহেরপুর সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ২০১১ সালে পলাশ দাখিল পাস করেন। পরে সোনারগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষের পর পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। এরপর বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় কী করতেন, কোথায় থাকতেন পলাশ, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানতেনও না। বাড়িতে প্রায় আসতেনই না। ঢাকায় গান ও অভিনয় করতেন বলে স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছেন তিনি।

পিয়ার জাহান জানান, গত কোরবানি ঈদের এক মাস আগে এবং এরপর এক সপ্তাহ আগে দুই দফায় পলাশ বাড়ি আসেন। তখন তাঁর সঙ্গে চলচ্চিত্র নায়িকা সিমলা ছিলেন বলে দাবি করেন পলাশের বাবা। তিনি বলেন, পলাশ তাঁকে জানান, সিমলাকে তিনি বিয়ে করেছেন। তবে পলাশের এই বিয়েতে প্রবল আপত্তি করেন তাঁরা। এ কারণে যেদিন এসেছিলেন, ওই দিনই সিমলা ও পলাশ ঢাকায় চলে যান।

পিয়ার জাহান বলেন, ‘ছেলে বেয়াড়া ছিল। কী করত, কোথায় থাকত, তা জানতাম না।’ পলাশের বাবা জানান, সর্বশেষ একটানা ১৫ দিন বাড়ি ছিলেন পলাশ। এর আগে এতটা সময় তিনি বাড়ি থাকেননি। দুবাই যাবেন বলে মা-বাবাকে তিনি জানান। তাঁর এই কথায় কোনো আপত্তি করেননি তাঁরা। দুবাই যাওয়ার কথা বলে গত শুক্রবার বাড়ি ছেড়ে যান পলাশ।

পলাশের জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না বলে জানান পলাশের বাবা। নাম মো. পলাশ আহমদ হলেও ফেসবুকে মাহি বি জাহান নামে অ্যাকাউন্ট আছে তাঁর। ওই অ্যাকাউন্টে দেওয়া ছবিগুলোও বাবা পিয়ার জাহান শনাক্ত করেন।

পলাশের মা রেণু বেগম গতকালই হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছেন। তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। বাড়ি এসে ছেলের কথা শোনার পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা।

নিহত পলাশের লাশ এখন ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে আছে। তবে ছেলের লাশ চান না বাবা। বললেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে যে কাজ করেছে, তার লাশ চাই না।’