শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম দক্ষিণ : শিক্ষায় অলি-নদভী সম্পদে সামশু এগিয়ে

সারাবেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৮:২৬ এএম

চট্টগ্রাম দক্ষিণ : শিক্ষায় অলি-নদভী সম্পদে সামশু এগিয়ে

চট্টগ্রাম দক্ষিণের ৫ আসনে মোট ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।হলফনামায় তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শিক্ষায় এগিয়ে আছেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ ও আওয়ামীলীগের ড. আবু রেজা নদভী। ব্যবসায়িক সফলতায় সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া সামশুল হক চৌধুরী। তবে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ার পর ব্যবসায় আয় কমেছে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের। ফলে নগদ টাকার পরিমাণও গত পাঁচ বছরে কমেছে প্রায় কোটি টাকার মতো।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিনে চট্টগ্রাম দক্ষিণের চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া, চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এবং চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে মোট ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী  গত পাঁচ বছরে আনোয়ারা-১৩ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের আয় কমেছে  প্রায় কোটি টাকার মতো। তবে অর্থ কমলেও চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে আওয়ামী লীগের এ ব্যবসায়ী নেতা অর্থ-বিত্তে চট্টগ্রাম দক্ষিণের সবচেয়ে ধনী প্রার্থী।

আনোয়ারা আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছিলেন ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪০ টাকা। তবে এবারের হলফনামায় ব্যবসায়িক আয় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৮ হাজার ৫৫২ টাকা।

আগের হলফনামায় যেখানে চাকরি/সম্মানী ভাতা হিসেবে আয় ছিল ৮০ লাখ সাড়ে ৭১ হাজার সেখানে একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪ হাজার টাকায়। ফলে নগদ টাকার পরিমাণও ১ কোটি ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৭ টাকা থেকে কমে ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ টাকায় নেমেছে। তবে বন্ড ও স্টক মার্কেটে শেয়ার হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর নামে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৭৪ টাকার সম্পদ রয়েছে।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সরওয়ার জামাল নিজাম আয় রোজগারে অনেকখানি পিছিয়ে রয়েছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এ বিএনপি নেতার ব্যবসা থেকে আয় মাত্র ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। হাতে নগদ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫৩ টাকা থাকলেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৪ টাকা। সঞ্চয়পত্রে জমা আছে আরও সাড়ে ৫৩ লাখ টাকা।

শিক্ষাগত যোগ্যতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে ২০ দলীয় ঐক্যজাটের মনোনয়ন পাওয়া এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। দুজনই শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রি গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।

ব্যবসায়িক সফলতায় সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া সামশুল হক চৌধুরী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ব্যবসা থেকে নিজের বাৎসরিক আয় উল্লেখ করেছিলেন ৫ লাখ ৬০ হাজার ৫১০ টাকা। তবে গত ২৮ নভেম্বর জমা দেওয়া হলফনামায় ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৭ টাকা। অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ৮ গুণের বেশি। ফলে নগদ টাকার সমাগমও বেড়েছে অনেকখানি।

৯ম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় সামশুল হক চৌধুরীর হাতে নগদ টাকা ছিল মাত্র এক হাজার ৩৬৯ টাকা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৭ টাকা। তবে সর্বশেষ হলফনামায় ২১ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলারসহ তাঁর হাতে নগদ টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৯৪১ টাকা। একই সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার পরিমাণও বেড়েছে ৫২ লাখ ২০ হাজার ৭৫৫ টাকা।

পটিয়া আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দুজন। এর মধ্যে এগিয়ে আছেন মো. এনামুল হক। চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনাম ব্যবসা থেকে গত বছর আয় করেছেন ৪০ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ টাকা। আর বাড়ি ভাড়া থেকেও তিনি আয় করেছেন ১৫ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। হাতে নগদ ১০ লাখ টাকা থাকলেও এনামুল হকের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। বিস্ফোরক দ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পটিয়া ও কোতোয়ালী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে।