শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

আনোয়ারায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পুলিশ বক্স গুড়িয়ে দিল জনতা

প্রতিনিধি, আনোয়ারা

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৮:৪৩ পিএম

আনোয়ারায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পুলিশ বক্স গুড়িয়ে দিল জনতা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পুলিশের ‘চাঁদা দাবি’-কে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে পুলিশ বক্স গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ও পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই ঘন্টার অধিক সময় যানচলাচল বন্ধ থাকে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, এদিন বেলা ১১টার দিকে সড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে কাগজপত্র চেক করে সব ঠিক পায়। তারপরও ট্রাফিক পুলিশ তার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধর করে।

তারা জানান, এ ঘটনায় চালক-হেলপার ও স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তা বিক্ষোভে রূপ নিতেই পুলিশ বক্স ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রায় দুই ঘণ্টার পর পুলিশ ও ডিবি পুলিশের স্পেশাল ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

আনোয়ারা হাসপাতাল ও সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১ টায় চট্টগ্রাম শহর মূখী (ঢাকা মেট্রো-ট ২২-৪৯৩৯) গাড়িটি নিয়ে চালক মোহাম্মদ রুবেল (৩২) চাতরী চৌমুহনী বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক পুলিশ এসআই আনোয়ার ও তাঁর সোর্স মুন্না গাড়ি থামানোর সংকেত  দেয় এবং পরে তাঁকে ট্রাফিক বক্সে নিয়ে গিয়ে কাগজপত্র  দেখাতে বলে। ওই সময় চালকের সাথে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও  সোর্স  মিলে চালককে মারধর শুরু করলে চালক চিৎকারে আশপাশের চালক ও জনতা ছুটে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা ও বিভিন্ন গাড়ীর চালকেরা মিলে ভাংচুর চালায়। পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে। আহত চালক মোহাম্মদ রুবেলকে উদ্ধার করে আনোয়ারা হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয়রা।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই বিক্ষুদ্ধ জনতা পুলিশ বক্স ভাংচুর ও পুলিশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন দিলে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন  নেভায়।

ঘটনার পর ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার শত শত মানুষ রাস্তায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত ট্রাফিক পুলিশ ও  সোর্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইয়ে চলে গেলে চট্টগ্রাম শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ২ ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এ ঘটনায় জনতার হামলায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই আনোয়ার আহত হয়।

এদিকে সড়ক  যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে রাস্তার দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষ যানজটের ভোগান্তিতে পড়ে। এসময় আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ ও পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নিলে দুই ঘন্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চালকেরা জানান, আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনীর উপর দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়াসহ আনোয়ারার কয়েক হাজার সিএনজি চালক মইজ্জারটেক গ্যাস পাম্পে গ্যাস নিতে আসা যাওয়া করে। এই সময় সিএনজি চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তল্লাশির নামে হয়রানী করা হয়। উপজেলার শোলকাটা, কালাবিবির দীঘি, চাতরী  চৌমুহনী ও রাজছিলা ফকিরের মাজার, কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান দীঘির পাড়,  দৌলতপুর, শাহমীরপুর, শিকলবাহা ক্রসিং, কলেজবাজার ও মইজ্জারটেক ধাপে ধাপে ট্রাফিক পুলিশের হয়রানীর শিকার হতে হয়। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামে অন্তত ১০টি সমিতির নামে  টোকেন বিক্রি করা হয় সিএনজি চালকেদের। অভিযোগ আছে,  টোকেন  থেকে প্রাপ্ত টাকার বিরাট অংশ পায় ট্রাফিক পুলিশ ও  সোর্স। বুধবারের ঘটনাটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভুত  ক্ষোভের বহিপ্রকাশ বলে জানা  গেছে।

বাঁশখালীর পুকুরিয়া গ্রামের সিএনজি চালক আবদুর রহিম (২৮) বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশের বাঁধা আর হয়রানীর কারণে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

ট্রাফিক পুলিশের টোকেন বাণিজ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবহিত নই। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ জানান, পুলিশ বক্সে ভাংচুর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত সোর্সের বিরুদ্ধেও মামলার প্রক্রিয়া চলছে। চালকদের কাছ থেকে ট্রাফিক পুলিশ ও  সোর্স কর্তৃক চাঁদা আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আগে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিলো।