বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

পটিয়ায় যুবকের মৃত্যু,মৃত্যুর সঙ্গে ৪২ দিন লড়াই

প্রতিনিধি, পটিয়া

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১০:৫২ পিএম

পটিয়ায় যুবকের মৃত্যু,মৃত্যুর সঙ্গে ৪২ দিন লড়াই

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতের দেড় মাসের মাথায় মো. রুবেল (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার উত্তর খরনা খইস্যা পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটলে ৪২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু হয়। সে একই এলাকার বদিউল আলমের ছেলে।

নিহত যুবকের ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা হলেও আসামীরা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। বর্তমানে নানা হুমকির মুখে নিহতের পরিবার নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

জানা গেছে, পটিয়া উপজেলার উত্তর খরনা খইস্যা পাড়া বদিউল আলমের পারিবারিক জায়গা রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলে। বদিউল আলম পাহাড়ি অঞ্চলে তাদের জায়গাতে চারা রোপন করে এবং লেবু চাষ করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কিছু চারা কেটে ফেলে প্রতিবেশি শফিউল আলম। চারা কেটে ফেলায় বদিউল আলমের ছেলে রুবেল প্রতিবেশি শফিউল আলমের কাছে জানতে জানতে চাইলে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

অভিযোগে জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় বদিউল আলমের ছেলে রুবেল বাড়ি থেকে খরনা বাজারে যাওয়ার পথে শফিউল আলমের ছেলে মোকারমসহ কয়েকজনে মিলে চুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় রুবেল চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এসে রুবেলকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার ৪২ দিন পর গত ১ নভেম্বর মৃত্যু হয় রুবেলের। পরে ময়না তদন্ত শেষে পটিয়া উত্তর খরনা খইস্যা পাড়া গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রুবেলের পিতা বদিউল আলম জানায়, তাদের নিজস্ব জমিতে লাগানো চারা কেটে ফেলায় এর প্রতিবাদ করায় তার ছেলে রুবেলকে পরিকল্পিত ভাবে চুরিকাঘাত করে প্রতিবেশি শফিউল আলমের ছেলে। এব্যাপারে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা বিভিন্ন ভাবে তাদের হুমকি ধুমকি প্রদান করায় নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছেন তারা। আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তিনি।

পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম মজুমদার জানান, প্রথমে এটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলা নেয়া হলেও পরে এটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

সারাবেলা/এএম/আরএইচ