বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

‘এপিএস’ সালাহউদ্দিন বেখসুর খালাস

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:২২ পিএম

‘এপিএস’ সালাহউদ্দিন বেখসুর খালাস

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা মামলায় শিলংয়ের আদালত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। শুক্রবার মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের একটি আদালত এ রায় দেন। ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে শিলংয়ের আদালতে মামলা চলছিল। শুক্রবার সেই মামলার রায় হলো।

বিচারিক হাকিম ডিজি খার সিংয়ের আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এর আগে এক দফা রায়ের তারিখ পেছান হয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন। এ কারণে এলাকায় তিনি ‘এপিএস’ সালাহউদ্দিন হিসাবে বেশি পরিচিত।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিলংয়ের আদালত সালাহউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। রায়ের পর উনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’

‘তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব কাগজপত্র পাওয়া মাত্রই দেশে ফিরবেন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে শিলংয়ের পুলিশ। প্রায় সাড়ে তিন বছর বিচার চলার পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

চলতি বছরের ১৩ আগস্ট এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর তা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আদালত। এরপর কয়েক দফায় রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়।

সালাহউদ্দিন আদালতে বলেছিলেন, ২০১৫ সালে মার্চে তাঁকে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। এর প্রায় দুই মাস পর কে বা কারা তাঁকে শিলংয়ে ফেলে যায়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন। এরপর প্রশাসনের চাকরি ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ২০০১ সালে তিনি কক্সবাজার থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হন। ভারতে যখন তিনি আটক হন তখন তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ভারতে আটক অবস্থায় বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।

দ্রুত দেশে ফিরতে চান সালাহউদ্দিন :

২০১৫ সালের ১২ মে ভারতের শিলং শহরে ‘রহস্যজনকভাবে’ এসে পৌঁছনোর পর দীর্ঘ সময় ধরে সেখানেই আছেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ।

শিলংয়ে একটি অতিথিনিবাস ভাড়া করে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।  ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যরা অতটা আসতে না পারলেও বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় কিন্তু সেখানে লেগেই আছে।

শিলংয়ে তিনি ঠিক কীভাবে এসে পৌঁছেছিলেন তা নিয়ে রহস্যের জট এখনও খোলেনি তবে সালাহউদ্দিন আহমেদ সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক যেসব বিষয়ে কথা বললে বিতর্ক তৈরি হতে পারে আইনজীবীর পরামর্শে বিরত থেকেছেন সে সব প্রসঙ্গে মন্তব্য করা থেকেও।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব কাগজপত্র পাওয়া মাত্রই দেশে ফিরবেন।