ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

ঘূর্ণিঝড় যাচ্ছে ভারতের দিকে

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০৮:১৬ এএম

ঘূর্ণিঝড় যাচ্ছে ভারতের দিকে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’-তে রূপ নিয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রে থাকা ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। এটি বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ ভারতের ভুবনেশ্বর ও বিশাখাপত্তমের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ভারতীয় উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও সামান্য পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে এগিয়ে আসছে। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগরে প্রচুর মেঘ বইছে। যে কারণে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের জন্য সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেতের পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঢাকার সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘুর্ণিঝড়ের গতিপথ ভারতের দিকে আছে। বৃহস্পতিবার তা আরো চূড়ান্তভাবে বলা যাবে। এর প্রভাবে ভাতের পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশ্যা, তামিলনাডু প্রভিৃতি অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। চট্টগ্রাম অঞ্চলেও বৃষ্টি হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুউদ্দীন আহমেদ বলেন, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আরব সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এর নাম ‘লুবান’। এটি যাবে ওমান ও ইয়েমেনের দিকে। আর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ খুলনার পাশ দিয়ে ভারতের ওডিশার দিকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ‘তিতলি’ খুব সম্ভবত ১০ অক্টোবর পেরিয়ে ১১ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে উপকূলের দিকে আসতে পারে। তবে এটি শক্তির মাত্রা কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব হবে না।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলে এ ঝড়ের নাম দিয়েছে ‘তিতলি’।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত মানে হল- দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখই ঝড় কবলিত হবে না। তবে বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ভাগে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলে ‘তিতলি’ নামটি প্রস্তাব করে পাকিস্তান। এর অর্থ প্রজাপতি। এদিকে আরব সাগরে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুবান’। ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ইয়ামেন ও ওমানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এ আগে সেপ্টেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে তার নাম দেওয়া হয় দেয়ি। ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়া সেই ঝড়ের তেমন কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপ হচ্ছে একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ৫১ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে। কোনো ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ৬১ থেকে ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে হলে তাকে বলে ঘূর্ণিঝড়।

ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে কি না- জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি এখনও অনেক দূরে, কক্সবাজার থেকে ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে এটি। সাগরের মধ্যে যখন একটি ঘূর্ণিঝড় মুভমেন্ট করে তখন এর গতিপথ অনেক সময় পরিবর্তন হয়ে যায়।’

তিতলি ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটারের বাতাসের গতি সম্পন্ন তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ মল্লিক বলেন, ‘এটার মুভমেন্ট সামান্য পশ্চিম দিকে। তাই সবকিছু মিলিয়ে আমরা এখনই বলছি না এটি বাংলাদেশে আসবে। এখন পর্যন্ত যে মডেল প্রেডিকশন, তাতে উত্তর-পশ্চিম দিকে উড়িষ্যার কাছাকাছি গোপালপুর দিয়ে উপকূলের কাছাকাছি আসবে। সেখান থেকে একটু মোড় নিয়ে বাংলাদেশেও আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ঘূর্ণিঝড় এখনও অনেক দূরে, এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটবে।’

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।