শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

কর্ণফুলী টোল প্লাজায় এএসপির দাপট !

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০৯:৩১ পিএম

কর্ণফুলী টোল প্লাজায় এএসপির দাপট !

চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজায় ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পু্লিশ সুপারের দায়িত্বে ছিলেন।

শুক্রবার দুপুরে সেতুর টোল প্লাজার দুটি টোল আদায় বক্স ভাংচুর এবং সেখানে কর্মরত দুই কর্মীকে মারধর করেন তিনি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর টোলপ্লাজার ম্যানেজার (প্রশাসন) মহিদুল ইসলাম বাদশা কর্ণফুলী থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। এতে এএসপি মশিয়ার রহমান ছাড়াও তার গাড়িচালক ও আরও দুইজনকে অভিযু্ক্ত করা হয়েছে।

কর্ণফুলী থানা পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত করছে বলে  জানান কর্ণফুলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান ইমাম। তিনি বলেন, কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর টোলপ্লাজায় ভাংচুর ও টোলপ্লাজার কর্মকতা-কর্মচারীদের মারধেরর অভিযোগে টোলপ্লাজার ম্যানেজার (প্রশাসন) মহিদুল ইসলাম বাদশা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজার পরিচালক (অপারেশন) অপূর্ব সাহা বলেন, ওই কর্মকর্তা সাদা পোশাকে পুলিশের পিকআপ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী হয়ে ৬ নম্বর টোল বক্সের লাইনে ছিলেন। কয়েকটা গাড়ির পেছনে থাকায় তিনি একটি লাঠি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে এসে কোনো কারণ ছাড়াই টোল কক্ষে ভাংচুর চালান এবং টোল আদায়কর্মীকে মারধর করে বের করে দেন। এভাবে আরও একটি টোল বক্সে প্রবেশ করে তিনি দরজা ভাংচুর করেন। এএসপি মশিয়ার সাদা পোশাকে থাকলেও তার সঙ্গে পিস্তল ছিল।

অভিযোগে জানা যায়,মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পু্লিশ সুপার মশিয়ার রহমান তার গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন। দুইটি বুথে টোল সংগ্রহ করছিলেন সোহাগ ও ফয়সাল। কয়েকটি গাড়ির পরেই এএসপি মশিয়ারের গাড়ি ছিল। হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে এমে তিনি বুথের গ্লাস ভাঙা শুরু করেন। পরে বুথ থেকে বের করে সোহাগ ও ফয়সালকে মারধর করেন। তাদের বাঁচাতে গেলে সাদ্দাম হোসেন নামে আরও একজনকে মারধর করেন এএসপি মশিয়ার। পরে তিনি তার গাড়ির সামনে থাকা অন্যান্য গাড়িগুলো টোলগ্রহণ ছাড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন ও তিনিও চলে যান।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, “ঘটনাটি সিএমপি (চট্টগ্রাম নগর পুলিশ) এক সার্জেন্টের মাধ্যমে আমরা জেনেছি। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিনা অনুমতিতে কোথাও যাচ্ছিল। এ অবস্থায় ওই টোল প্লাজায় সে অসদাচরণ করেছে। ঘটনার পর জেলা পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে জেলা পুলিশ অফিসে নিয়ে এসে তাকে প্রত্যাহার করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।তাকে জেলা পুলিশ অফিসে সংযুক্ত করা হয়।”