শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

অবশেষে হাতির পলায়ন !

আনোয়ারা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০১৮ শনিবার, ০৫:০১ পিএম

অবশেষে হাতির পলায়ন ! এই মহড়ার আগেই পালিয়ে যায় হাতি দু’টি

ঠিক যেন ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল’ টাইপের ঘটনা। আবার বলা যায় মহড়া দেখার আগেই পালিয়ে গেল হাতি। ১৫ দিন ধরে দু’টি বন্য হাতি হারাম করে দিয়েছিল আনোয়ারার অন্তত ৩ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের সুখনিদ্রা। হানা দিতে শুরু করেছিল বিভিন্ন এলাকায়। হাতি ঠেকাতে গ্রামে গ্রামে বসানো হয় পাহারা। ফটকা ফুটানো, আগুন জ্বালানো,ঢাকঢোল পিটানো, হৈ হৈ রব তোলা এসবও কম হয় নি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরাও রাত জেগে শামিল হয়েছিলেন পাহারায়।

থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, হাতি গবেষকদের নিয়ে যৌথ বৈঠকও হয়েছে হাতি তাড়ানোর জন্য। কেউ কেউ আরো খানিকটা এগিয়ে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাতি তাড়ানোর জন্য মন্ত্রী পর্যায়ে আলাপ হয়েছে বলেও প্রচার শুরু করে।

হাতি তাড়ানোর জন্য শনিবার বড় পরিসরে লোকজন জড়ো করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। সে অনুযায়ী শনিবার সকালে বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর স্কুল মাঠে এলাকাবাসী সঙ্গে নিয়ে বৈঠকও শুরু হয়।

কিন্তু তার আগেই শনিবার ভোর রাতে হাতি দু’টো নিজে নিজে দেয়াঙ পাহাড় থেকে বের হয়ে শঙ্খ নদ হয়ে বাঁশখালীর পথ ধরে বলে খবর চলে আসে। তাই বলে কি আর বৈঠক বন্ধ করা যায় ! আলোচনা সভা শেষ করে বনবিভাগ কর্মকর্তারা পাহাড়ে ঘুরাঘুরি করে নিশ্চিত হন ঘুম হারাম করে দেওয়া হাতি দু’টি আর নেই।

বন বিভাগের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলে আসছিলেন চুনতি অভয়ারণ্য থেকে পথ হারিয়ে  হাতি দু’টো বাঁশখালী হয়ে আনোয়ারার পাহাড়ি এলাকায় ঢুকে পড়েছিল। এলাকাবাসী হাতি দু’টির পায়ের ছাপ দেখে অনুমান করছেন বাঁশখালী হয়ে চুনতির দিকেই গেছে হাতি দু’টি।

প্রায় ১৫ দিন আগে হাতি দু’টি অবস্থান নিয়েছিল দেয়াঙ পাহাড় ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায়। এ সময় তারা তান্ডবও কম চালায় নি। শুক্রবার ভোর রাতে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় মোহাম্মদপুর গ্রামে হাতির আক্রমনে মারা যান আবদুর রহমান নামে এক বৃদ্ধ। এর কয়েক দিন আগে বৈরাগ গ্রামে একটি বসতঘর ভেঙ্গে দেয় হাতি দু’টি । এ সময় আহত হয় আরেক মহিলা। এছাড়া হাতিগুলো ১৫ দিন ধরে পর্যায়ক্রমে গ্রামে গ্রামে ঢুকে ফসল ও বাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

হাতিগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠায় হাতি তাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে শনিবার আনোয়ারা উপজেলা ও থানা পুলিশের যৌথ বৈঠক হয়। শনিবার সকালে আবারও মাঠ পর্যায়ে বৈঠক ডাকে প্রশাসন। স্থানীয় মোহাম্মদপুর স্কুল মাঠে বড় পরিসরে এলাকাবাসীকে জড়ো করতে আগের দিন পুরো এলাকায় মাইকিংও করা হয়। কিভাবে তাড়াতে হবে সেটার একটি মহড়াও সম্পন্ন করে পুলিশ, গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসী। কথা ছিল এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে পাহাড়ের তিন পাশ ঘেরাও করে বাঁশখালীর পথটি খোলা রেখে হাতি দু’টিকে বাঁশখালীর পথ ধরিযে দেওয়া হবে।

তাহলে কি হাতিরা স্থানীয় জনসাধারণ ও প্রশাসনের পরিকল্পনা টের পেয়ে গিয়ে ছিল ? স্থানীয় বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ, যিনি আগের রাতেও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পাহারা বসিয়েছিলন। তিনি এমন রসিকতায় না গিয়ে জানালেন, ভোরে হাতি দু’টি শঙ্খ নদ হয়ে বাঁশখালীর পথ ধরেছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। আর কোন হাতি বা হাতির শাবক দেয়াঙ পাহাড়ে আছে কিনা বনবিভাগের কর্মীরা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পাহাড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।

বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চুনতি অভয়ারণ্যে ৪২টি ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকা মিলিয়ে ৪৭টি বন্য হাতি রয়েছে এই অঞ্চলে। এই হাতিগুলোর মধ্য থেকে কোন কোনটি পথ হারিয়ে প্রতি বছর আনোয়ারায় ঢুকে পড়ছে। প্রায প্রতি বছরই এভাবে দলচ্যুত হাতি ঢুকে আনোয়ারায় তান্ডব চালানোর ঘটনা করছে। এতে প্রানহানির ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে।