শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

তাবলিগে ফের মারামারি , পরে সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার, ০৫:০৪ পিএম

তাবলিগে ফের মারামারি , পরে সমঝোতা

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ-জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ছয় মুরব্বির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কাকরাইল মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মসজিদে জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ১ মে পর্যন্ত সৈয়দ ওয়াসিফ ও মাওলানা জুবায়ের কাকরাইলের বাহিরে থাকবেন। দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হলো- দুই গ্রুপের দুই দুইজন করে চারজনকে সাময়িকভাবে কাকরাইলে আসা-যাওয়া না করতে বলা হয়েছে।

সাময়িকভাবে কাকরাইল মসজিদে না যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া মুরব্বিরা হলেন- আব্দুল্লাহ মনছুর, ড. এরতেজা হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান ও ড. আজগর।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আমরা বহিরাগত সবাইকে বের করে দিয়েছি। মসজিদের স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে। এ বিষয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ তিনি জানান, বাইরে থেকে কেউ এসে মসজিদে অবস্থান করতে পারবেন না। তবে নামাজ আদায় করা যাবে।
বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্টমন্ত্রী দেশে আসার পর তাবলিগ জামাতের নেতাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা হবে।

শনিবার সকালে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ-জামাতের সাদপন্থী ও হেফাজতপন্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর মসজিদের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই পক্ষকেই বের করে দিয়ে মসজিদ ফাঁকা করে পুলিশ।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ-জামাতের সদস্য মাওলানা জুবায়ের এবং সুরা সদস্য ওয়াসিফুল ইসলামের গ্রুপের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। জুবায়ের পাকিস্তান গিয়ে একটি জামাতে অংশ নিয়ে আহমেদ লাকশাহ নামের একজনের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জুবায়েরের কাছে বাংলাদেশের তাবলিগ-জামাতের সদস্যদের জন্য একটি বার্তা দিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশে এসে তিনি সে বার্তা জানাননি। সুরা সদস্যরা অন্য মাধ্যমে বার্তার বিষয়টি জানতে পারেন। সুরা সদস্যদের বৈঠকের সময় বিষয়টি উঠে আসে এবং তখনই দুইপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এরপর দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের বর্তমান মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। তাবলিগ-জামাতের দুই পক্ষের বিভেদের মধ্যেই ফের আজ শনিবার সকালে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দুইপক্ষকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ-জামাতের বৈঠক বসে। এ সময় মাওলানা সাদের বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘিরে সাদপন্থী ও তার বিরোধীপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাদবিরোধীরা বলেন, মাওলানা সাদ যদি তার বিতর্কিত বক্তব্য থেকে সরে না আসেন তাহলে তাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।

জাকারিয়া নামের এক তাবলিগকর্মী বলেন, মাওলানা সাদ ভুল করেছে একথা বলায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। সাদপন্থী ও সাদবিরোধীদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে মারামাররি ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।