ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

১৫০ কিলোমিটার হাঁটবেন সাংসদ

সারাবেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ০৯:৩৪ এএম

১৫০ কিলোমিটার হাঁটবেন সাংসদ

রাউজানের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর ‘প্রাণের টানে পায়ে হেঁটে রাউজানের ঘরে ঘরে’ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (১৬ এপ্রিল)। এই কর্মসূচিতে ৪ দিনে প্রায় দেড়শ’ কিলোমটার পথ হেঁটে ঘরে ঘরে গিয়ে গিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সুখ-দূ:খের খবর নেবেন।

সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উপজেলার ইছাপুর ব্রিজ থেকে যাত্রা শুরু হয়। ১৯ এপ্রিল পৌরসভার গহিরা চৌমুহনীতে গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত হবে। চারদিনের এ যাত্রায় কমপক্ষে ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড পায়ে হাঁটার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম রাত্রিযাপন হলদিয়া ইউনিয়নে। রাউজানের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে সফল ও স্বার্থক করতে প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ লোকজন।

পায়ে হাঁটার সময় বিভিন্ন ইউনিয়নে, গ্রামে-গ্রঞ্জে পথসভা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনবেন এমপি ফজলে করিম।’

এ প্রসঙ্গে ফজলে করিম এমপি বলেন, ২৪৩ কিলোমিটার আয়তনের একটি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি মনে করেছি এতগুলো বছরে এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি তা দেখা। মানুষ আর কী কী চায় এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনা।  ‘পায়ে হেঁটে রাউজানের প্রতিটি এলাকায় যাওয়া, মানুষের সঙ্গে কথা বলা’ কর্মসূচি বিশাল একটি উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশে এটি একটি নজির স্থাপন করবে। সকল স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে।

জনপ্রতিনিধির পায়ে হেঁটে রাউজান ভ্রমণের এ কর্মসূচিকে ঘিরে সাজ সাজ রব উঠেছে পুরো উপজেলায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি রুটম্যাপ অনুযায়ী সড়ক ও আশপাশের এলাকা সাজছে গোলাপি (পিংক) রঙে। এক হাজার নেতা-কর্মীর জন্য বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবিযুক্ত গোলাপি রঙের বিশেষ কটি (পোশাক) তৈরি করা হয়েছে। তাদের জন্য থাকছে স্পেশাল কার্ড, যা ঝোলানো থাকবে গলায়। মাথায় থাকবে একই রঙের ক্যাপ।

ফজলে করিম এমপি বলেন, আমরা ২০১৭ সালে রাউজানে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ফলদ চারা রোপণ করেছি। এর আগেও প্রতিবছর চারা রোপণ করেছি সেগুলো দেখভাল করব। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার টাকা গাড়িভাড়া দিয়ে ১৮৩ বিদ্যালয়ের ২২ হাজার শিক্ষার্থীকে টিফিন করাচ্ছি, সেই কার্যক্রম সরেজমিন দেখব। আমাদের কৃষকরা, মৎস্যচাষিরা পাহাড়ি ঢলে বার বার ক্ষতির মুখে পড়েছিল। আমি নিজে ৬ টন ধানবীজ, স্প্রে মেশিন কিনে দিয়েছি। অনেক অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন দিয়েছি। রোগীদের হুইল চেয়ার দিয়েছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। তাদের খোঁজখবর নেব।’ যোগ করেন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রতি দিন সকাল নয়টায় হাঁটা শুরু করব। জনসংযোগ করতে করতে এগোবো। রাতে ত্রিপল টাঙিয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাব, বিশ্রাম নেব, আলোচনা করব। সব মানুষ যাতে খেতে পারে সে জন্য রাতের বেলা মুরগির মাংস দিয়ে আলু, সবজি, ডাল আর সাদা ভাত খাওয়ানো হবে।

‘পিংক-গ্রিন-ক্লিন’ রাউজান দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে জানিয়ে এবিএম ফজলে করিম বলেন, রাউজানে মাস্টারদা সূর্য সেনের যে ভিটি আছে, ভাস্কর্য আছে, আদ্যাপীঠ আছে, মহামুনি আছে, নবীন সেন কমপ্লেক্স, ডাকবাংলো, হালদা নদী আছে, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) আছে, রাবার বাগান আছে। সম্প্রতি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি মাস্টারদা সূর্য সেনের ভিটি পরিদর্শন করে গেছেন। প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক আসেন। সব মিলে ব্যাপক পর্যটন সম্ভাবনা আছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমদ ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ জানান, ইছাপুর ব্রিজ হয়ে পর্যায়ক্রমে গহিরা, নোয়াজিষপুর, চিকদাইর, ডাবুয়া, হলদিয়া, পৌরসভা, ৭ নং রাউজান ইউনিয়ন, কদলপুর, পাহাড়তলী, বাগোয়ান, নোয়াপাড়া, উরকিরচর, পশ্চিম গুজরা, পূর্ব গুজরা, বিনাজুরী হয়ে পৌরসভার গহিরা চৌমুহনীতে শেষ হবে।

সারাবেলা/প্রতিনিধি/আরএইচসি