বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

একদিনেই দেশে ৪৫ লাখ টিকা

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২১ শনিবার, ০৯:০৫ এএম

একদিনেই দেশে ৪৫ লাখ টিকা

একদিনেই দেশে এলো করোনার ৪৫ লাখ টিকা। যা বাংলাদেশের জন্য বিরল মাইলফলক। চীনের বেইজিং থেকে বাণিজ্যিকভাবে ক্রয় করা সিনোফার্মের ২০ লাখ টিকার মধ্যে ১০ লাখ ডোজ টিকা শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকায় পৌঁছে। এর আগে রাত ১১টা ২২ মিনিটে ‘কোভ্যাক্স’র আওতায় মডার্নার ১২ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছায়।

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে কোভাক্সের মাধ্যমে মডার্নার আরো সাড়ে ১২ লাখ টিকার আরেকটি চালান ও এর কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে আসে চীনের সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজের আরেকটি চালান। সবমিলিযে ২৪ ঘন্টার কম সময়ের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে দেশে পৌঁছাল ৪৫ লাখ ডোজ করোনার টিকা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, এসব টিকা বাংলাদেশ পাওয়ার পর আবার পূর্ণাঙ্গভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালু করবে সরকার।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এ বছরই ১০ কোটি ডোজ টিকা দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, টিকা নিয়ে আমাদের সংকটের দিন শেষ। শুক্রবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মডার্নার টিকা হস্তান্তরকালে তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, টিকা পাওয়ার অনেকগুলো সোর্স আমাদের আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো কোভ্যাক্স। যুক্তরাষ্ট্র কোভ্যাক্সের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিচ্ছে। আগস্ট মাসে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকেও টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরকম বিভিন্ন সোর্স থেকেই আমরা ১০ কোটি ডোজ টিকা পাব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর জনসন অ্যান্ড জনসনের সাত কোটি ডোজ টিকা আসবে। তাদের একটি টিকা একজনকেই দেওয়া হবে। তাহলে তাদের টিকাই আমরা সাত কোটি মানুষকে দিতে পারব।

এর আগে গত মঙ্গলবার দেশে অষ্টম টিকা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার এমআরএনএ-১২৭৩ নামক করোনার টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। টিকার নির্দিষ্ট সংখ্যক ডোজ হাতে পাওয়ার পর তা প্রবাসী শিক্ষার্থীসহ অগ্রাধিকারে থাকা ব্যক্তিদের দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মডার্নার টিকা দেশে পৌঁছলে তা হবে বাংলাদেশে আসা করোনা প্রতিরোধী চতুর্থ টিকা। এর আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার-বায়োএনটেক ও সিনোফার্মের টিকা এসেছে বাংলাদেশে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা নিয়ে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। সে সময় চল্লিশোর্ধ্ব এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ২০ শ্রেণী-পেশার নাগরিকদের এ টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকার সংস্থান না হওয়ায় এ কার্যক্রমে ঘাটতি দেখা যায়। এরপর অন্যান্য উৎস থেকে টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার তত্পরতা বাড়ায়।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, শুক্রবার  রাত ১১টা ২১ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মডার্নার সাড়ে ১২ লাখ ডোজ টিকা এসে পৌঁছেছে। টিকা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনসহ অনেকে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে চীনের সিনোফার্ম থেকে বাংলাদেশ সরকারের কেনা ২০ লাখ ডোজের মধ্যে ১০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় টিকার চালানটি।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান। তিনি বলেন, একটি বিশেষ ফ্লাইটে সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ টিকা রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। বাকি টিকা সকালে আসার কথা রয়েছে।

গত ১২ মে প্রথমবার সিনোফার্মের তৈরি পাঁচ লাখ উপহারের টিকা বাংলাদেশে পাঠায় চীন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৩ জুন আরও ছয় লাখ টিকা উপহার হিসেবে পাঠায় চীন। সব মিলিয়ে ১১ লাখ টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে চীন। আর এই প্রথম চীন থেকে বাণিজ্যিকভাবে কেনা টিকা বাংলাদেশে এসেছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর জানিয়েছে, মডার্নার টিকা ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সীদের দেওয়া যায়। প্রত্যেককে এই টিকার দুই ডোজ করে দিতে হয়। টিকাটির প্রথম ডোজ নেওয়ার চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যাবে। মাইনাস ১৫ থেকে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ টিকা সংরক্ষণ করতে হয়। টিকাটি ব্যবহারের আগে ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩০ দিন এবং ৮-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।

মডার্নার এই টিকা গত ২২ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে গতবছরের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এবং ৬ জানুয়ারি ইউরোপিয়ান মেডিসিন অথরিটির অনুমোদন পায় টিকাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মডার্নার টিকা করোনার বিরুদ্ধে ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। বাংলাদেশে এই টিকার স্থানীয় প্রতিনিধি এমএনসি অ্যান্ড এএইচ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসছে আগস্টে

এদিকে সিনোফার্ম ও মডার্ণার টিকা এলেও অ্যাস্ট্রাজেনেকারি টিকা নিয়ে অস্বস্থি রয়ে গিয়েছিল। এই টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন কয়েক লাখ মানুষ। কখন টিকা আসবে আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে সুখবর এসেছে। ইঙ্গিত মিলেছে আগস্ট নাগাদ আসতে পারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা।

চুক্তি অনুযায়ী ভারত থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না পাওয়া গেলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগস্টে ১৫ লাখ টিকা আসবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ যারা পাননি তাদের এই টিকা দেওয়া হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আগস্ট মাস থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে, এমন ইঙ্গিত পেয়েছি। আমরা আশা করি, সময় মতো টিকা পেয়ে যাব। যারা সেকেন্ড ডোজের অপেক্ষায় আছে, তারা আবার টিকা নিতে পারবে। দ্বিতীয় ডোজ যাদের আটকে আছে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই টিকা দেবে।

মন্ত্রী বলেন, এই টিকার মাধ্যমে আমাদের টিকা কার্যক্রমে গতি ফিরবে। এ বছরের মধ্যেই ১০ কোটি ডোজ টিকা দেশে আসবে। জনসন অ্যান্ড জনসনের থেকে সাত কোটি টিকা আসার কথা রয়েছে। সেই টিকা আগামী বছরের মাঝামাঝিতে আসবে। সেটি হবে এক ডোজের, যা যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দিচ্ছে।