মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

চট্টগ্রামে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী খুন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২০ শনিবার, ০৬:৪০ পিএম

চট্টগ্রামে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী খুন

চট্টগ্রাম নগরীতে বিকাশ এজেন্ট নৃশংসভাবে খুনের ১০ দিনের মাথায় হত্যার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন করে একজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। পাওনা টাকার জন্যই চট্টগ্রামে খুন হয়েছেন বিজয় কুমার বিশ্বাস (৩০)নামে এই ব্যবসায়ী।  হত্যাকান্ডে জড়িত আবদুর রহমান নামের ওই  ব্যবসাযী পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থার (সিআইডি) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

গ্রেফতার আব্দুর রহমান (৪০) গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার গোলাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার নেভি ওয়েলফেয়ার মার্কেটের দোতলায় আব্দুর রহমানের রাইড এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স হাওলাদার বিল্ডার্স নামে দুটি দোকান আছে বলে সিআইডি জানিয়েছে। তার বাসা বন্দরটিলা এলাকায়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালতে ব্যবসায়ী বিজয় কুমার বিশ্বাস হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আব্দুর রহমান।

জানা যায়, ব্যবসায়িক সুসম্পর্কের খাতিরে নিজের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের কাছে বিকাশ ব্যবসায়ী বিজয় কুমার বিশ্বাস মাসিক সাত হাজার টাকা লাভে দেড় লাখ টাকা লগ্নি করেছিলেন। আর সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় আব্দুর রহমানের হাতে খুন হন বিজয় কুমার বিশ্বাস। গত ১৪ অক্টোবর রাতে বিজয়ের গলায় ইন্টারনেটে তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন আব্দুর রহমান। পরে লাশ গুম করার জন্য নিজের দোকান কর্মচারী নাসির উদ্দিনের সহযোগিতায় পাহাড়তলী থানা এলাকার আলিফ গলিতে বস্তাবন্দি বিজয়ের লাশ ফেলে দিয়ে আসেন আব্দুর রহমান ও নাসির উদ্দিন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান  জানান, খুন হওয়া ব্যবসায়ী বিজয় কুমার বিশ্বাস ইপিজেড থানা এলাকার নেভী ওয়েল ফেয়ার মার্কেটে চাঁদনী এন্টারপ্রাইজ ও গিফট শপ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আব্দুর রহমান একই মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় মের্সাস রাইড এন্টারপ্রাইজ ও হাওলাদার এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ব্যবসায়িক সম্পর্কের খাতিরে মাসিক সাত হাজার টাকা লাভে আব্দুর রহমান দেড় লাখ টাকা ঋণ সহযোগিতা নেন বিজয় কুমার থেকে।

হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ১৪ অক্টোবর রাতে। ১৫ অক্টোবর নগরের পাহাড়তলী থানার অলঙ্কার মোড়ের আলিফ গলির সামনে থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বিজয়ের লাশ শনাক্ত করেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে পাহাড়তলী থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে সিআইডি তদন্ত শুরু করে।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ  শনিবার তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নগরের ইপিজেড নেভি হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় একই মার্কেটে দোকান ছিল আবদুর রহমান ও বিজয় কুমার বিশ্বাসের। নয় মাস আগে বিজয়ের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নেন আবদুর রহমান। মাসে মাসে লাভ দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ধার দেওয়া টাকাগুলো ফেরত চান বিজয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টাকা না দিতে বিজয়কে মারার পরিকল্পনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ১৪ অক্টোবর সকালে দোকান খুলতে গেলে বিজয়কে আবদুর রহমান তাঁর দোকানে ডেকে নিয়ে যান। তাঁর দোকানের কর্মচারী নাছির উদ্দিনকে নিয়ে দোকানের ভেতর গলায় তার পেঁচিয়ে বিজয়কে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। লাশটি বস্তাবন্দী করে পাহাড়তলী অলঙ্কার মোড় এলাকায় ফেলে রাখা হয়।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ জানান, পলাতক দোকান কর্মচারী নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে, আব্দুর রহমান কয়েক মাস মুনাফার টাকা না দেয়ায় বিজয় মুনাফাসহ আসল টাকা ফেরত দেয়ার জন্যে তাগাদা দেন। তাগাদা পেয়ে টাকা না দিয়ে উল্টো আব্দুর রহমান বিজয়কে খুন করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্দুর রহমান তার পাওনাদার বিজয়কে কৌশলে নিজ প্রতিষ্ঠানে ডেকে নিয়ে গলায় ইন্টারনেটের তার পেঁচিয়ে খুন করে। খুনের পর লাশ গুম করতে বস্তায় ভরে পাহাড়তলী থানা এলাকার আলিফ গলিতে ফেলে যায়।