মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

চিরনিদ্রায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২০ শনিবার, ০৬:০০ পিএম

চিরনিদ্রায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। শনিবার বেলা ৩টায় স্ত্রী ডা. ফরিদা হকের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন প্রবীণ এই আইনজীবী।  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা আদ-দ্বীন হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে হয় দ্বিতীয় জানাজা। দুপুর ২টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে তার তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়।

বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রফিক-উল হক।

গত শনিবার তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করলে সকালের দিকে রিলিজ নিয়ে বাসায় ফিরে যান। কিন্তু দুপুরের পরপরই ফের তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। রক্তশূন্যতা, ইউরিন সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
আইনি অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক উল হক। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থেকেও বেতন নিতেন না ব্যারিস্টার রফিক উল হক। বরং নিজের উপার্জন মানুষের সেবায় বিলিয়ে দিতেন তিনি। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণের সেবকের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। রফিক উল হকের স্মৃতিচারণ করে এসব কথা বলছেন আইনজীবীরা।

১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ব্যারিস্টার রফিক উল হক। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার অ্যাট ল সম্পন্ন করেন।

১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক উল হক। এ সময়ে তিনি কোনও সম্মানী নেননি। পেশাগত জীবনে তিনি কখনও কোনও রাজনৈতিক দল করেননি। তবে নানা সময়ে রাজনীতিবিদরা তাকে পাশে পেয়েছেন।