মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

চট্টগ্রামে বর্ষণে বিপর্যস্ত জীবন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার, ০৭:৩৪ পিএম

চট্টগ্রামে বর্ষণে বিপর্যস্ত জীবন

চট্টগ্রামে দু‘দিন ধরে ভারি বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের শংকা। পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। খোলা হয়েছে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে পানি উঠেছে। ফলে রাস্তায় রিকশাসহ গণপরিবহন কমে গেছে। বৃষ্টির কারণে শুক্রবার দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে চট্টগ্রামের মন্ডপে অঞ্জলী দিতে আসা পূজার্থীদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ মেঘনাধ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন স্থানে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের উপর এখনো মৌসূমী বায়ুর বলবৎ আছে। রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে, বিভাগের অনেক স্থানে মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পরবর্তীতে নিম্নচাপ/গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকূল দিয়ে দেশে প্রবেশ করতে পারে। ফলে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।’

এদিকে বন্দরে  তিন নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত এবং সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। লাইটারেজ জাহাজগুলোকে পতেঙ্গা উপকূলে এনে রাখা হয়েছে।

দুইদিন ধরে বৃষ্টিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জনজীবন একপ্রকার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণে নগরীর বহদ্দারহাট, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, আগ্রাবাদ, চকবাজারের মতো নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে গেছে। কোথাও গোড়ালি পানি, কোথাও হাঁটু পানি দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচলের সাময়িক অসুবিধা হলেও কিছু সময় পরে পানি নেমে যেতে দেখা যায়।

ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড়ধসের আশংকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরাতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা থেকেও মাইকিং করে লোকজন সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে এসব ঝুঁকিপূর্ণদের জন্য পাহাড়তলী, খুলশী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ ও কাট্টলীতে খোলা হয়েছে মোট ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়া স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা থেকেও নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে কাট্টলী সার্কেলের অধীনে পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবর শাহ, কৈবল্যধাম, খুলশী, জালালাবাদ, চন্দ্রনগর এলাকায় ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আগ্রাবাদ সার্কেলের অধীনে লালখান বাজার, পোড়া কলোনী এবং একে খান পাহাড় এলাকায় ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

এছাড়া চান্দগাঁও সার্কেলের অধীনে আমিন জুট মিল সংলগ্ন পাহাড়, ভেড়া ফকিরের পাহাড়, ট্যাংকির পাহাড় এলাকার জন্য রৌফাবাদ রশিদিয়া মাদ্রাসাকে এবং বাকলিয়া সার্কেলের অধীনে মতিঝর্ণা, বাটালি হিল এলাকার জন্য ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুত করা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হল- কৈবল্যধাম বিশ্বকলোনির কোয়াড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাহাড়তলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফিরোজ শাহ হাউজিং এস্টেটের ফিরোজ শাহ কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফিরোজ শাহ হাউজিং এস্টেট এইচ ব্লকের বায়তুল ফালাহ আদর্শ মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জালালাবাদ বাজার সংলগ্ন শেড, রউফাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, রশিদিয়া রউফাবাদ আলিম মাদ্রাসা, মহানগর পাবলিক স্কুল, আল হেরা মাদ্রাসা, আমিন জুট মিলস নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লালখানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলিম উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবাদ উল্লাহ পন্ডিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিঝর্ণা ইউসেফ স্কুল, শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থাগুলো বলছে, বঙ্গোপসাগর অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে গেছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা এখন সবচেয়ে বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তা ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা–নামা করছিল। অথচ এই সময়ে সেখানকার তাপমাত্রা ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা। বাড়তি এই উত্তাপের কারণেই সেখানে চলতি মাসে পরপর তিনটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই বর্তমান লঘুচাপটি দ্রুত গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা কম।