শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

৩২ দিন পুলিশ কী করেছে-হাইকোর্টের প্রশ্ন

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২০ মঙ্গলবার, ০৮:৫১ এএম

৩২ দিন পুলিশ কী করেছে-হাইকোর্টের প্রশ্ন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের নারী ধর্ষণ চেষ্টা ও নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে ভিডিওটি সিডি বা পেনড্রাইভে কপি করে বিটিআরসিকে সংরক্ষণে রাখতে বলে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিত নারী ও তার পরিবারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নোয়াখালীর এসপিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। নারী নির্যাতনের এ ঘটনা নজরে আনার পর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। এছাড়া, ওই নারীর নিরাপত্তা, জবানবন্দি নেয়া, দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ সার্বিক ঘটনায় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো অবহেলা আছে কি না, তা অনুসন্ধানে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছে হাইকোর্ট। কমিটিতে জেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা ও চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের অধ্যক্ষকে রাখা হয়েছে। ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নোয়াখালীর এ ঘটনায়  এক মাসেরও বেশি সময়ে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল- এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ‘৩২ দিন পর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে- এর আগে পুলিশ কী করেছে?’ অন্যদিকে কোনো মানবাধিকার সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন না হওয়ায় হতাশাও প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত।

এ আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন, সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান, জামিউল হক ফয়সাল, রাশিদা চৌধুরী নিলু, তানজীম আল ইসলাম প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।

শুনানিতে আদালত বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ঘটনার ৩২ দিন পর যখন ভিডিও ভাইরাল হলো তখন পুলিশ তৎপর হয়েছে। এর আগে তারা কী করেছে? এই ভিডিও যদি ভাইরাল না হতো তাহলে তো পুলিশ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো না। ঘটনা সবার চোখের আড়ালেই থেকে যেত।’

একই সঙ্গে এ ঘটনায় কোনো মানবাধিকার সংগঠন বা নারী সংগঠন প্রতিকারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে হাইকোর্ট বলেন, ‘আমরা আশাহত হয়েছি যে, অধিকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্টের মতো সংগঠন বা কোনো নারী সংগঠন এগিয়ে আসেনি।’

এর আগে সকালে ওই ঘটনা নিয়ে সোমবারের (৫ অক্টোবর) বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। নজরে আনার পর তাদের একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেন আদালত। বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে শুনানির সময় নির্ধারণ করেন। দুপুরে বিরতির পরে আদালতের নির্ধারিত সময়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণের আবেদন জানান।

তারা বলেন, ‘এটা একটি জনস্বার্থমূলক বিষয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়ে গেছে। এটা থাকলে সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। এটা অপসারণ করা দরকার। তবে ভিডিওটি সাক্ষ্য হিসেবে সংরক্ষণের জন্য বিটিআরসির প্রতি নির্দেশনাও চাচ্ছি।’ এছাড়া অন্য আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল আদালতে আর্জি তুলে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চাচ্ছি।’

জেড আইন খানের এই আর্জির সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় শুনানিতে অংশ নেন অন্য আইনজীবীরা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একজন নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করছে। তাদের একজন পা দিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরেছে। বারবার আকুতি জানানোর পরও তার ওপর নির্যাতন থামেনি। এদিকে এ ঘটনায় ওই নারীর পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩২ দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রোববার (৪ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।