সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

আনোয়ারায় ছয় লেইনের সড়ক ঘিরে নতুন আশা

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৮:০৮ এএম

আনোয়ারায় ছয় লেইনের সড়ক ঘিরে নতুন আশা

ছয় লেইনের কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের ই-টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন বৃহস্পতিবার। শিকলবাহা থেকে আনোয়ারা কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার এই সড়ক ঘিরে আশায় আছেন সাধারণ মানুষ। অপরদিকে আতংকে আছেন প্রস্তাবিত সড়কের দুই পাশের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, টেন্ডার জমার পর তুলনামূলক বিবরণী তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে ঠিকাদারের কাছ থেকে নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড  (এনওএ) বা সম্মতি নেওয়ার পর দেওয়া হবে কার্যাদেশ। তবে কাজ পাওয়ার জন্য ৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত দেওয়া হয়েছে।  দুই মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষে দেওয়া হবে কার্যাদেশ।

জানা যায়, বর্তমানে সড়কটি প্রশস্ততা মাত্র ১৯ ফুট। যে কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় এই সড়কে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। কেইপিজেডের বিভিন্ন কলকারখানা ছুটি হলে যানজট স্থায়ী হয় ৩/৪ ঘন্টা পর্যন্ত। প্রস্তাবিত ১৬০ ফুট প্রশস্তের এই সড়কটিতে ধীরগতির গাড়ির জন্য দুই লেইনসহ মোট ৬ লেইন হবে। সড়কের জন্য বেশিরভাগ জমি অধিগ্রহণ করা থাকলেও ব্যস্ততম বাজারগুলোতে কিছু জায়গা অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। মূল কাজ শুরুর পরেই এই অধিগ্রহণ করার চিন্তা করছে সওজ।

সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেল চালু হলে প্রথম বছরেই চলাচল করবে ৬৩ লাখ যানবাহন। এ হিসাবে সংযোগ সড়কের কাজটি বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। সড়ক ও জনপথের দোহাজারী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, টেন্ডারে ঠিকাদারের যোগ্যতা বিবেচনার জন্য ৫ বছরের টার্নওভার চাওয়া হয়েছে। এই সময়ে তাদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। ঠিকাদারের জন্য জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা। 

এদিকে ছয় লেইনের সংযোগ সড়ক ঘিরে অনেকাংশে বদলে যেতে পারে এ অঞ্চলের ব্যস্ততম চাতরী বাজার , ফাজিলখার হাটসহ কয়েকটি বাজারের চেহারা। ইতিমধ্যে অনেকেই মূল সড়কের আশপাশ থেকে দূরে গিয়ে ব্যবসায়িক ঠিকানার খোঁজ শুরু করেছেন। দুই শতাধিক দোকানের চাতরী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেই বেশি আতংক কাজ করছে। এই বাজারের পাশেই কর্ণফুলী টানেলের মূল সড়ক, চায়না ইকোনমিক জোন, কেইপিজেড ও টানেলের বিকল্প সড়ক হওয়াতে অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে কয়েকটি মার্কেট ও বেশকিছু দোকানপাট। নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেন, কিছু পকেট ল্যান্ড আছে। মূল কাজ শুরুর পর সেগুলো অধিগ্রহন করা হবে। তবে এই অধিগ্রহণের জন্য মূল কাজের কোন ব্যাঘাত হবে না। 

অধিগ্রহণসহ চারশ‘ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ সমাপ্তের সম্ভাব্য সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে দেড় বছর।