সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

লাখে ৩০জন আক্রান্ত হলেই রেডজোন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২০ রবিবার, ০৯:৪২ এএম

লাখে ৩০জন আক্রান্ত হলেই রেডজোন

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দুই মাসের বেশি সাধারণ ছুটি রেখেও সেভাবে সুফল মেলেনি। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তাই এবার আরো কঠিন কিছুর চিন্তা করছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় সারাদেশ একসঙ্গে বন্ধ না করে রেড (লাল) , ইয়েলো (হলুদ), গ্রিন (সবুজ) এভাবে জোন  ভাগ করে লকডাউনের প্রস্তুতি চলছে।

কক্সবাজার পৌরসভাকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে লকডাউন করা হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার ওয়ারী ও ধানমন্ডির রাজাবাজার এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে রোববার লকডাউন ঘোষণা করা হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, প্রথমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় রোববার অথবা সোমবার থেকে লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে। ঢাকার বাইরে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ঢাকার মধ্যে রাজাবাজার ও ওয়ারী এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে লকডাউন কার্যকর করা হতে পারে। এই দুই এলাকাকে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে লকডাউন করার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও ফোকাল পারসন হাবিবুর রহমান খান বলেন, জোন চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি প্রায় চূড়ান্ত। এখন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সমন্বয় করার কাজ চলছে। এরপর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। জোন ভাগের ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্তদের ফোন নম্বরের অবস্থান বিশেষ কাজে আসবে। সেই নম্বরের অবস্থান নির্ধারণ করে কোন এলাকায় কত রোগী তা সুনির্দিষ্টভাবে জানার কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। তবে তা এখনও শেষ হয়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে এ সপ্তাহেই উদ্যোগটি কার্যকর করা যাবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্যবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান মনে করেন, একটি ওয়ার্ড বা প্রয়োজনে তারও ছোট এলাকা লকডাউন হতে পারে।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সারাদেশে রেডজোন এলাকাগুলোতে ২১ দিন লকডাউন কার্যকর করার চিন্তাভাবনা চলছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এই রেডজোনের কোনো মানুষকে বের হতে দেওয়া হবে না। আবার অন্য মানুষকে এই জোনে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এবার ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।প্রয়োজনে কাগজ দেখিয়ে ইয়েলো জোন এলাকা থেকে বের হওয়া যাবে।ইয়েলো জোনে অবরুদ্ধ থাকবে। ইয়েলো জোনে বসবাসকারীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য আইডি কার্ড প্রদর্শন করে বের হতে পারবে। আবার কর্মস্থলে যাওয়ারও সুযোগ পাবে। তবে ইয়েলো জোন থেকে রেড জোন কিংবা দেশের অন্যত্র চলাচল করতে পারবে না। গ্রিন জোনে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। তবে রেড ও ইয়েলো জোন থেকে কাউকে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে গ্রিন জোন থেকেও কেউ রেড ও ইয়েলো জোনে প্রবেশ করতে পারবে না।

স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্র বলছে, কোনও এলাকায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০-৪০ জন হলে সেই জায়গা রেড জোন হিসেবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এ সপ্তাহেই জোন ভাগের কাজ শেষের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।তবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে জোন নির্ধারণে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।

ঢাকায় প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩০ জন আক্রান্ত হলে তাকে `রেড` জোন বলে ধরা হবে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি লাখে ৩ থেকে ২৯ হলে তা `ইয়েলো` জোন এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি লাখে শূন্য থেকে ২ হলে তা `গ্রিন` জোন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি লাখে ১০ জন হলে তা `রেড` জোন বিবেচনা করা হবে। এছাড়া আক্রান্ত প্রতি লাখে ৩ থেকে ৯ জন হলে তা `ইয়েলো` জোন এবং আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য থেকে ২ জন হলে তা `গ্রিন` জোন বলে বিবেচিত হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম নিশ্চিত করেছেন, জোন ভাগের খসড়া সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে দু’একদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘অনেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। জোন ভাগ করার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু আমাদের কাছে এখনও আসেনি। গত সপ্তাহের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইসিটি মন্ত্রণালয় এখন ম্যাপ নির্ধারণে ব্যস্ত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষজ্ঞরা এতে যোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সহযোগিতা করছে সিটি করপোরেশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’

গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই ছুটির পর সাধারণ মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন। এরপর মাঝখানে গার্মেন্টস মালিকরা ছুটি প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিয়ে আসেন। আবার তাদের ফেরত পাঠানো হয়। আবার ঈদের আগে সবকিছু খুলে দেওয়া হলো। হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ফিরে গেলেন। ছুটি শেষে আবারও ঢাকার ফিরে এলেন। এভাবেই ৬৬ দিন ছুটির পর গত ৩১ মে সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।