সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

মৃত্যুর হিসাবে ঢাকাকে ছাড়াল চট্টগ্রাম

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২০ বুধবার, ০৮:২৪ এএম

মৃত্যুর হিসাবে ঢাকাকে ছাড়াল চট্টগ্রাম

করোনা রোগীর সংখ্যার দিক থেকে হটস্পট নারায়নগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জকে পেছনে ফেলেছিল আগেই। এবার একদিনে মৃত্যুর হিসাবে ঢাকাকেও ছাড়িয়ে গেল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আক্রান্তের সংখ্যায় নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা নিয়ে শংকিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনা সংক্রমনের এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১২ থানাকে রেডজোনে চিহ্নিত করেছে সিভিল সার্জন অফিস। এদিকে মঙ্গলবার (২জুন) চট্টগ্রামে নতুন করে আরো ২০৬জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে।

এতদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে শীর্ষে অবস্থান করছিল ঢাকা বিভাগ। পিছু পিছু হাঁটছিল চট্টগ্রাম। কিন্তু এবার মৃত্যুর হিসাবে ঢাকা বিভাগকে পেছনে ফেলল চট্টগ্রাম বিভাগ।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ১০ জন, সিলেটে চারজন, বরিশালে তিনজন, রাজশাহীতে দুজন, রংপুরে দুজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন নয়জন।

দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। গত ১৭ মার্চ আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। শুরুর দিকে হাতেগোনা দু-চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সম্প্রতি এ সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা সংক্রমণের ৮৬তম দিনে অর্থাৎ মঙ্গলবার (২ জুন) এ সংখ্যা ৩৭-এ উন্নীত হয়। যদিও গত ৩১ মে সর্বোচ্চ ৪০ জনের মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ বুলেটিনে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যত রোগীর মৃত্যুর খবর দেয়া হয় তার মধ্যে রাজধানী ঢাকায়ই সবচেয়ে বেশি রোগী মৃত্যুর খবর আসে। তবে সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে (মঙ্গলবার) বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ৩৭ করোনা রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক ১৫ জনই চট্টগ্রাম বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে রাজধানী ঢাকা তথা ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুঝুঁকির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নাম।

জীবন-জীবিকার তাগিদে সাধারণ ছুটি শেষে রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় শপিংমল ও মার্কেট খুলে দেয়া হয়েছে। চালু হয়েছে গণপরিবহনও। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে অসংখ্য মানুষের যাতায়াতের ফলে করোনার সংক্রমণঝুঁকি বাড়ছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে রাজধানী ঢাকাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগ- এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

চট্টগ্রামে ১২ থানা রেড জোন

করোনা হটস্পট বিবেচনায় নগরীর ১২ থানা এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া বাকি থানাগুলোকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করা হয়। গতকাল চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জোন ভাগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তালিকায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ এর ওপরে থানা এলাকাকে রেড জোন, আক্রান্তের সংখ্যা ১০ থেকে ৯০ এর মধ্যে সেসব থানাকে ইউলো জোন, ১ থেকে ১০ জনের মধ্যে থাকা এলাকা ব্লু জোন এবং আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য থাকা এলাকাকে গ্রিন জোনে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায় ৩২৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় শীর্ষে রয়েছে কোতোয়ালী থানা। এছাড়া পাঁচলাইশে ২১৫, খুলশীতে ১৮৩, পতেঙ্গায় ১৬৮, হালিশহরে ১৬৭, ডবলমুরিংয়ে ১৪১, বন্দরে ১২৩, পাহাড়তলীতে ১১৪, ইপিজেডে ১১২, বন্দরে ১১১, চকবাজারে ১১১ ও চান্দগাঁওয়ে ১০৬ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় এসব থানাকে রেড জোনে রাখা হয়েছে।

নতুন সনাক্ত ২০৬

চট্টগ্রামে মঙ্গলবার আরো ২০৬জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের ৩ ল্যাব ও কক্সবাজার মেডিকেল ল্যাব মিলিয়ে ৬২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২০৬ জন। এর মধ্যে ১১৯ জন মহানগরের এবং ৮৭ জন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫১ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৮৭ জন। যাদের ৭৪ জন নগরের এবং ১৩ জন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার। ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত ল্যাব বিআইটিআইডিতে ২৫২ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন নগরের এবং ২৩ জন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার। সিভাসু ল্যাবে ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এর মধ্যে নগরের ৯ এবং উপজেলায় ৫০ জন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের একজন নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরীতে শনাক্ত ২০৬ জন করোনা রোগীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের পটিয়ায় সর্বাধিক ৪৯ জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, হাটহাজারীতে ১০ জন, সীতাকুণ্ডে ৩ জন, ফটিকছড়িতে ৮ জন, মিরসরাইয়ে একজন, রাউজানে ৩ জন ও লোহাগাড়ায় একজন করোনা রোগী শনাক্ত হল।