রোববার, ৩১ মে ২০২০

চট্টগ্রামে এক সপ্তাহে করোনা ভয়ংকর

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২০ শুক্রবার, ১১:২৮ এএম

চট্টগ্রামে এক সপ্তাহে করোনা ভয়ংকর

চট্টগ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভয়ংকর হয়ে উঠছে করোনা পরিস্থিতি। গত ৩ এপ্রিল  চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী সনাক্তের পর ৪ মে পর্যন্ত সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৯জন, মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬। এরপর ১৫দিনে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১২শ’ জন। আর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৬ গুণ। 

বৃহস্পতিবার (২১মে) চার ল্যাবে ৪৬২ নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ৯০ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। অর্থাৎ প্রতি ৫ জনে একজনের পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী একমাসের মধ্যে করোনার ডেন্জারজোন নারায়নগঞ্জকে ছাড়িয়ে যেতে পারে চট্টগ্রাম-এ আশংকা বিশেষজ্ঞদের। 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী জানান, বৃহস্পতিবার ৪৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯০ জনের পজেটিভ এসেছে। এর মধ্যে নগরীর ৭৭জন, উপজেলার ১৩জন। উপজেলাগুলোর মধ্যে হাটহাজারীর ৫জন, রাউজানের ২জন, সন্দ্বীপ ২জন, পটিয়া, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, সীতাকুন্ড উপজেলার একজন করে রোগী রয়েছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ৪জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে করোনা ছড়াচ্ছে দ্রুত। আক্রান্তদের ৭৫ভাগ শহরের। মহানগরীর মধ্যে কোতোয়ালী, খুলশি, পাঁচলাইশ, হালিশহর, ইপিজেড, গ্রামাঞ্চলে পটিয়া, সীতাকুন্ড, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া উপজেলা এর মধ্যে ডেঞ্জার জোন হয়ে উঠেছে।

স্বাচিপের করোনা সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক ডা. মিনহাজুর রহমান বলেন,  এখন করোনা পরিস্থিতির ৪র্থ ধাপ চলছে। এ অবস্থায় সনাক্তের সংখ্যা উর্ধমুখি থাকে। কখন তা নীচের দিকে নামবে বলা কঠিন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রামে সনাক্ত ১৩২১ জনের মধ্যে ৯৯৭জন চট্টগ্রাম মহানগরীর ও ৩২১জন বিভিন্ন উপজেলার। সংখ্যার বিচারে ৭৫ ভাগ রোগী নগরীর, ২৫ ভাগ গ্রামাঞ্চলের।

সিভিল সার্জন অফিস শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরীর থানাওয়ারী একটি হিসাব প্রকাশ করেছে। ২০ মে পর্যন্ত হালনাগাদ এই হিসাবে ১৬ থানার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে কোতোয়ালী, খুলশি, পাঁচলাইশ, হালিশহর, ইপিজেড। সনাক্তদের মধ্যে কোতোয়ালীতে ১৩৫, খুলশিতে ৯০, পাঁচলাইশ ৭৭, হালিশহর ৭৫, ইপিজেড ৭০, ডবলমুড়িং ৬৫, বন্দর ৬২, পাহাড়তলী ৫৩, চান্দগাঁও ৪৭, আকবরশাহ ৪৫, বাকলিয়া ৪১, চকবাজার ৩৭,সদরঘাট ৩৫, বায়েজিদ ৩০, পতেঙ্গা ২৯. কর্ণফুলী ২১জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে মহানগরীতে সনাক্তের সংখ্যা ৯১২জন।

উপজেলাগুলোর মধ্যে এই মুহুর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পটিয়া, সীতাকুন্ড , সাতকানিয়া, লোহাগাড়া। সনাক্তদের মধ্যে পটিয়া ৫২, লোহাগাড়া ৪৩, সীতাকুন্ড ৪২, হাটহাজারী ৪০, সাতকানিয়া ৩৫, রাঙ্গুনিয়া ২৮, বাঁশখালী ২১, বোয়ালখালী ১৪, সন্দ্বীপ ১৩, চন্দনাইশ ১২, রাউজান ৭,মিরসরাই ৬,আনোয়ারা ৫, ফটিকছড়ির ৩ জন রয়েছেন। 

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব সারাবেলাকে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে করোনা ভয়ংকর আচরণ করছে।আগে করোনা সংক্রমনের পর শ্বাসকষ্টে মৃত্যুর হার ছিল বেশি। এখন রক্ত জমাট বেধে হার্ট এটাক ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে অসচেতনতা ও অবাধ মেলামেশাকে দায়ি করেছেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে অনেকে লাইন ধরে বাড়ির দিকে ছুটছেন। এভাবে হলে তো করোনা ঠেকানো কঠিন হবে।