রোববার, ৩১ মে ২০২০

বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ আম্ফানের আঘাত

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২০ মঙ্গলবার, ০৮:৪৪ পিএম

বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ আম্ফানের আঘাত

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের শক্তি কিছুটা  কমেছে । আবহাওয়াভিত্তিক বিভিন্ন মডেলে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের নিচের একটি বড় অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ারের দিকে চলে গেছে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার কমেছে। তবে এখনও এটি সুপার সাইক্লোন রূপেই রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, সুপার সাইক্লোন আম্পান গভীর সাগর থেকে উপকূলের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে।  বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য যে গতিপথ, তাতে এটি খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বেশ কিছু উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বইছে ঝোড়ো বাতাসও।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের ২১ নম্বর বুলেটিনে ঝড়টি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। মঙ্গলবার সকালে এর গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার থাকলেও বিকাল তিনটার পর থেকে এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। সময় যতো গড়াবে এর গতিবেগ আরো কমবে।
অপরদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের ২৬ নম্বর বুলেটিনে সুপার সাইক্লোনের পরিবর্তে এটিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বলেছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে এর গতিবেগ ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রয়েছে বলা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৩টা পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস বলেছিল, সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিকেল ৩টা পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অফিস আরও বলছে, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার, কক্সবাজার বন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এটির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৪৫ কিলোমিটার, যার কারণে এটাকে সুপার সাইক্লোন বলা হয়েছে।’