রোববার, ৩১ মে ২০২০

চট্টগ্রামে আরো ৩ করোনা রোগী সনাক্ত

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২০ বুধবার, ০৯:০৪ পিএম

চট্টগ্রামে আরো ৩ করোনা রোগী সনাক্ত

চট্টগ্রামে আরো ৩ জন  করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। বুধবার  আগের ২৪ ঘন্টায় সংগৃহীত ৬০ নমুনা পরীক্ষায় এই তিনজনের `পজেটিভ‘   ধরা পড়ে। এ নিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ জনে।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজে (বিআইটিআইডি) বুধবার নতুন করে ৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে তিনজনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।

গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর এ ক‘দিনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ফলাফলে ঢাকা , নারাযনগঞ্জ ও অন্যান্য ক্লাস্টার জোনের তুলনায় বন্দরনগরী বেশ ভালো অবস্থায় ছিল। বুধবার এক দিনেই ৩ জন রোগী সনাক্ত হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে ভয়াবহ বিপদের আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ড. হাসান শাহরিয়ার কবির তিনজনের করোনা পজেটিভ হওয়ার বিষয়টি  নিশ্চিত করে বলেন, তিনজনের নমুনা পজেটিভ। এর মানে এদের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন চট্টগ্রাম মহানগরীর।  মহানগরীতে একজনের বাড়ি নগরীর সাগরিকা, একজন হালিশহর ও অন্য একজন জেলার সীতাকুন্ডের।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি মিয়া  বলেন, ‘আক্রান্ত তিন জনের একজন নারী। তার বাসা চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে। বাকি দু’জনের মধ্যে একজনের বাসা নগরীর সাগরিকা এলাকায়। আরেকজনের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায়।’

আক্রান্ত তিনজনের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তিনজনই নিজ নিজ বাসায় আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিএমএ চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী জানান, হালিশহরে আক্রান্ত রোগী একজন মহিলা। বাসা শাপলা আবাসিক এলাকায়।  সাগরিকার রোগী ভারটেক্স গার্মেন্টসে চাকরি করেন। আর সীতাকুন্ডে যে করোনা রোগী সনাক্ত হযেছেন তিনি নারায়নগঞ্জে একটি ব্যাংকে চাকরি করেন।

সীতাকুন্ডে সনাক্ত রোগী নারায়নগঞ্জে করোনা ক্লাস্টার জোন থেকে সংক্রমিত হয়েছেন এমন ধারণা পাওয়া গেলেও বাকী দুইজনের হিস্ট্রি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কী কারণে তাঁরা আক্রান্ত হলেন তা যাচাই করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সিভিল সার্জন অফিস সুত্র জানায়। সংক্রমিত তিনজনের মধ্যে একজনের বাড়ি সাগরিকা এলাকায় । তিনি পোশাক কারখানার কর্মী। ওই কারখানার কতজন শ্রমিক কাজ করছেন, তা শনাক্ত করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

নতুনভাবে আক্রান্ত হওয়া তিনজনের মধ্যে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে একজনের বাড়ি লকডাউন অবস্থায় রয়েছে। জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম পাহাড়তলী থানাধীন শাপলা আবাসিক এলাকার ‘আল্লাহর দান’ ভবনের এক মহিলার (বয়স ৪০) শরীরে করোনার লক্ষণ পাওয়ার পর সেই বাড়িটি লকডাউন করে দেয়। মঙ্গলবার  নমুনা সংগ্রহের পর আজ পরীক্ষায় পজিটিভ আসায় এখন ওই এলাকাটি লকডাউনের জন্য জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলে জানা যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত মহিলার স্বামী নগরীর একটি তারকা মানের হোটেলে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এছাড়া সাগরিকায় আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির বয়স ৪৫। তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তৃতীয়জন সীতাকুণ্ড থানার উত্তরপাড়া গোডাউন রোড এলাকার বাসিন্দা। উনার বয়স ৫০ বছর। রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রত্যেকের বাড়ি লকডাউনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

আগে সনাক্ত হওয়া দুইজন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।  এর বাইরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা অপর একজনের করোনা  ধরা পড়লেও তিনি সপরিবারে নারায়নগঞ্জে বসবাস করেন। বর্তমানে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন আছেন। আর নতুন করে সনাক্ত হওয়া তিনজনই শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিজ বাড়িতেই ছিলেন।

এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বিশেষায়িত বিআইটিআইডিতে ৩১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫জন করোনা রোগী সনাক্ত হলো। এর আগে এপ্রিল ৬৭ বছর বয়সী প্রথম রোগী সনাক্তের পর ৫ এপ্রিল তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে করোনা পজেটিভ হয়। প্রথম করোনা আক্রান্তের দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষায়ও বুধবার পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে।