শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

করোনায় মাদারীপুর ভয়ংকর, বিদেশফেরত ৩ হাজার

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২০ শুক্রবার, ১১:০৮ এএম

করোনায় মাদারীপুর ভয়ংকর, বিদেশফেরত ৩ হাজার

করোনা ভাইরাসে দেশে ভয়ংকর ঝুঁকিতে আছে মাদারীপুর। পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরও আছে ঝুঁকিতে। করোনাপ্রবণ দেশ চীন,ইটালি, গ্রিস, স্পেন কিংবা জার্মানি থেকে চলতি মার্চ মাসে মাদারীপুরে এসেছেন ২ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে ৬৬৪ জন আছেন শিবচর উপজেলার। জেলায় আসা প্রবাসীদের মধ্যে মাত্র ৮০জন আছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। বাকীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। এতে দিন দিন এই এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত যত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত পাওয়া গেছে তার বেশিরভাগই মাদারীপুরের। সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাকে `লকডাউন` করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ২৪৫ জনকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫জনকে। 

শিবচর উপজেলার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুদ্দিন খান বলেন, শিবচর উপজেলায় শুধু ঔষধের দোকান এবং অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে। এছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ থাকবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। এ সময়ের মধ্যে শিবচর উপজেলায় থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সেখান থেকে বেরও হতে পারবেন না।

তিনি বলেন, মানুষ যাতে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে রাস্তায় পুলিশী টহল থাকবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় পাওয়া গেলে জেল-জরিমানা করা হবে বলে জানান তিনি।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জায়গা যেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য লকডাউন করা হলো। এই উপজেলায় সম্প্রতি ৬৬৪ মানুষ ইটালি, গ্রিস, স্পেন কিংবা জার্মানি থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত যাদের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হয়েছে তারা মাদারীপুর, ফরিদপুর এবং শিবচর এলাকার বাসিন্দা।

"দুই একটা এলাকার কথা আমাদের খবরে আসে। তার মধ্যে হলো মাদারীপুর এরিয়া, ফরিদপুর এরিয়া বা ঐ শিবচর এরিয়া। এ সমস্ত এরিয়াতে বেশি করে দেখা দিচ্ছে। যদি অবনতি ঘটে, তাহলে পরে আমরা লকডাউনের দিকে যাব," সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, এসব এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্তের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যে ১৭ জনের দেহে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এসব এলাকার বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

"আমরা যেটা খবর পাই, ওখানকার লোক কোয়ারেন্টিনেও বেশি, বিদেশে থাকেও বেশি। সেজন্য এসব জায়গাকে আমরা মোর ক্রিটিক্যাল (বেশি ঝুঁকিপূর্ণ) মনে করি। আগামীতে যদি ওখানে সত্যিই বেড়ে যায়, তাহলে আমরা লকডাউন করবো," বলেন মি. মালেক।

মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলার বহু মানুষ ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে মাদারীপুর এবং ফরিদপুরের বহু বাসিন্দা ইতালি প্রবাসী। ইতালিতে করোনাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার সময় অনেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, দেশে ফিরেও তারা হোম কোয়ারেন্টিনের শর্ত না মেনে অবাধে চলাফেরা করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পুরো বাংলাদেশে এখন ৫০০০`র বেশি মানুষকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।