বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

টেলিভিশন মেরামতের কথা বলে অশ্লীল ছবি, আটক ২

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৮:২০ এএম

টেলিভিশন মেরামতের কথা বলে অশ্লীল ছবি, আটক ২

টিভি মেরামতের কথা বলে এক লোককে বাসায় ডেকে নেয় এক তরুণ। বাসায় গেলে ওই ব্যক্তিকে আটকে রেখে বাসায় থাকা নারী সদস্যদের সঙ্গে জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি উঠানো হয়। পরে ওই ব্যক্তির পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। তাৎক্ষণিকভাবে ৪৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধমে আদায় করে পরে বাকি টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে তারা। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সদস্যরা এই ধরনের অপরাধ করে আসছিল।

জিম্মি করে নারীদের সঙ্গে জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি ধারণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ক্রাইম টিম।

বুধবার চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ফরিদার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চান্দগাঁও মৌলভীপুকুর পাড় এলাকার মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে সাকিব (২৩) ও ফটিকছড়ি মধ্যম কাঞ্চননগর এলাকার সুমি আক্তার (২৮)।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আসিফ মহিউদ্দীন জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তিকে ফরিদারপাড়া এলাকায় টিভি মেরামতের কথা বলে ডেকে নেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। বাসায় গেলে ওই ব্যক্তিকে আটকে রেখে নারী সদস্যদের সঙ্গে জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি ধারণ করে। পরে ওই ব্যক্তির পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বিকাশের মাধ্যমে ৪৫ হাজার হাতিয়ে নেয়। বাকি টাকা প্রদানের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।

তিনি আরও জানান, ভিকটিমের পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের ফাঁদে ফেলে, টিভি-ফ্রিজ ঠিক করা ও বৈদ্যুতিক কাজ করার কথা বলে তরুণ, যুবক ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ও মহিলাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতে বাধ্য করত বলে স্বীকার করে। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটে সেসব ছবি প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করত।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক ব্যক্তিকে ফরিদেরপাড়া এলাকায় টিভি মেরামতের নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে ছবি তুলে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বিকাশের মাধ্যমে ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়েও নেয় তারা। পরে বাকি টাকার জন্য চাপ দিতে থাকলে ওই লোকের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।