শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চট্টগ্রামের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ৩ উপহার

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২০ সোমবার, ০৯:০১ এএম

চট্টগ্রামের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ৩ উপহার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ৩টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানে মদুনাঘাট শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্প , বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ১২ ঘণ্টা সম্প্রচার ও চট্টগ্রাম-সিলেট-ঢাকা রুটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এর নতুন কোচের উদ্বোধন করা হয়।

রবিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্প চট্টগ্রাম ওয়াসার বড় প্রকল্পগুলোর একটি। এর মাধ্যমে দৈনিক পাওয়া যাবে ৯ কোটি লিটার পানি।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচুর টাকা খরচ করে ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সুতরাং পানির অপচয় রোধ ও পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হলে প্রকল্পের প্রকৃত সুফল পাবে জনগণ। তিনি বলেন, ‘ওয়াসার পানি ছেড়ে দিয়ে দাঁত ব্রাশ ও দাড়ি কামাবেন না। দরকার হলে পানির অপচয় বন্ধ করতে নিচে মগ দিয়ে কিংবা বালতি বসিয়ে পানির সাশ্রয় করতে হবে। অনেক কষ্ট করে অর্থ ব্যয় করে নদী থেকে পানি পরিশোধন করে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিটিভি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র স্বতন্ত্র একটি কেন্দ্র হতে পারে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও আশপাশের এলাকার জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতি উঠে আসবে। বাড়বে কর্মসংস্থানও।

চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি চট্টগ্রামের দুটি প্রকল্পের একজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমতি চান।

তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘চট্টগ্রামে দুটি প্রকল্প আছে। একটি হচ্ছে টেলিভিশন ১২ ঘন্টা চালু এবং আরেকটি হচ্ছে পানি শোধানাগার। এসময় প্রধানমন্ত্রী দুইজন উপকারভোগীকে কথা বলার অনুমতি দেন। প্রথমে পানি শোধানাগর প্রকল্পের সুবিধাভোগীকে কথা বলার অনুমতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখি গৃহিণীদের উপকার হয়েছে কী না।’

এরপর চট্টগ্রাম ওয়াসার গ্রাহক আইফাতুল জান্নাত বলেন, চট্টগ্রামে আগে পানির সংকট ছিল। গৃহস্থালী কাজকর্ম করতে পারতাম না। সুপেয় পানিরও অনেক অভাব ছিল। শেখ রাসেল পানি শোধানাগর প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সেই সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছি। এবং গৃহস্থালী কাজসহ সবধরনের কাজ করতে পারছি।’

আইফাতুল জান্নাত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনরে চট্টগ্রামত দ’অত- মেজ্জান’ ও শুটকির। (আপনাকে চট্টগ্রামের মেজবানের দাওয়াত, মেজবান এবং শুটকির)। তখন প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘আসব শুটকি খেতে। তবে পানি ব্যবহার কিন্তু হিসাব করে করতে হবে। পানির যেন অপচয় না হয় সেটা দেখতে হবে।’

এরপর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু যুক্ত হন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার হাত ধরেই ১৯৯৬ সালে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ ঘন্টায় যাত্রা করছে। তিনি বলেন, আমরা আপনার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, এই দুই সমন্বয়ে এই টেলিভিশনটি একটি পূর্ণাঙ্গ রুপ লাভ করবে। শুধু চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশ নয়, বিশ্ববাসী দেখবে বাংলার সংস্কৃতির কত শক্তি বা ধারা আছে।’

পরে প্রধানমন্ত্রী ‘আরা চাটগাঁইয়া নওজোয়ান সিনা দিই ঠেকাই ঝড়-তুয়ান’ গানের কলি বলে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান শুনতে চান। পরে একজন ‘বাঁশখালী-মইশখালী পাল উড়াইয়া দিলে সাম্পান গুরগুরাই টানে’ গানটি প্রধানমন্ত্রীকে গেয়ে শোনান।

চট্টগ্রাম প্রান্তে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইব্রাহীম, বিটিভির মহাপরিচালক এস এম হারুন অর রশিদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ, ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামসহ ওয়াসার বোর্ড মেম্বারগণ উপস্থিত ছিলেন।