শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফিরতে চান সামীম আফজাল

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার, ১০:২৪ পিএম

ফিরতে চান সামীম আফজাল

টানা ১১ বছর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে বিদায় নেওয়ার পর আবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফাবা)-এর স্বপদে ফিরতে চান সামীম মোহাম্মদ আফজাল। গত ৩০ ডিসেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে থেকেই স্বপদে ফেরার সবরকম চেষ্টা শুরু করেন তিনি। সরকারের উচ্চপর্যায়ে তার সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে ইতোমধ্যে পদে ফেরার বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব ফের সামীমের হাতেই যাচ্ছে- এমন আশাবাদও কোনও কোনও ঘনিষ্ঠ পরিচালকের।

সামীম আফজালের ঘনিষ্ঠ ইফাবা’র একাধিক পরিচালক, গভর্নর ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে শেষ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে এই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংস্থা) মু. আ. হামিদ জমাদ্দারকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে আর্থিক ক্ষমতাসহ মহাপরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হলো। নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।’ 

শনিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী একাধিক দায়িত্বশীল জানান, কয়েকবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে ১১ বছর মহাপরিচালক হিসেবে ইফাবার দায়িত্ব পালন করেছেন সামীম আফজাল। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর তার চুক্তি শেষ হলেও নতুন করে তিনি চুক্তি নবায়ন করার প্রচেষ্টা শুরু করেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী এক দায়িত্বশীল বলেন, ‘মহাপরিচালক হিসেবে বর্তমানে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। তবে সামীম আফজাল পদে ফিরতে আবারও চুক্তি নবায়ন করতে চান। কিন্তু পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তিনি চাইলেই মহাপরিচালক পদে নিয়োগ হবে।’ 

ইফার দুটি বিভাগের পরিচালক দাবি করেন, সামীম আফজালের বিরুদ্ধে মত থাকলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিশ্বস্ততার প্রমাণ দিয়েছেন। আর চলতি বছরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার মতো পরীক্ষিত ব্যক্তির ওপরেই সরকারের আস্থা থাকতে পারে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল জানান, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সামীম আফজালের দূরত্ব রয়েছে। বর্তমানে সামীম আফজালের মেয়াদ নবায়ন না করার পেছনে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা আছে, এমন আলোচনা রয়েছে খোদ মন্ত্রণালয়েই। তবে প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জোর দিয়ে বলেছেন, সামীম আফজালের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে সুসম্পর্ক থাকার কারণে তার প্রত্যাবর্তন ঠেকানো খুব সহজ হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন মহাপরিচালক কবে নাগাদ নিয়োগ হবে, এটা এখনও ঠিক হয়নি। কে হবেন, তা এখনই বলার সুযোগ নেই।’

তবে প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলছে- নতুন করে সামীম আফজাল নিয়োগ পেতে চান, এমন সম্ভাবনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান দায়িত্বশীল হিসেবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মনোভাব আমলে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে সামীমের স্থলে নতুন কাউকেই পদায়ন করা হবে, এমন সম্ভাবনার কথাও জানায় সূত্রটি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সামীম আফজালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তাধীন রয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য দেওয়ার জন্য চিঠি দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসেন। এছাড়া সামীম আফজালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৯ কর্মকর্তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

ইফাবা সূত্র জানায়, গত বছরের শেষ দিকে দুই দফা সরকারি টাকা ফেরত দিতে হয় সামীম আফজালকে। গত ২৩ অক্টোবর প্রথম দফায় সোনালী ব্যাংক পাবলিক সার্ভিস কমিশন শাখায় একটি চেকের মাধ্যমে ৩২ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় গত ৩১ অক্টোবর একই শাখায় তিনটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪১ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন তিনি। প্রসঙ্গত, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি পরীক্ষার জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ কার্যালয় থেকে একটি নিরীক্ষা দলের তদন্তে এসব অনিয়ম বের হয়।

আবারও চুক্তি নবায়ন করতে চাইছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘আমি এসব ব্যপারে একটা শব্দও বলতে পারবো না।’

এদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন ডিজি হিসেবে সোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে। তবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ ও ইফাবার বোর্ড অব গভর্নর, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বিষয়টিকেই ‘রিউমার’ বলে মন্তব্য করেন। এমনকী মাওলানা মাসঊদও শনিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে ভাবছি না। পুরো বিষয়টির সঙ্গে আমার এই মুহূর্তে ন্যূনতম যোগাযোগ নেই।’

জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নর র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, ‘সরকার একজনকে  ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে।  এখন মহাপরিচালক হিসেবে  কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কিনা এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। এখানে  বোর্ড অব গভর্নরসের কোনও ভূমিকা নেই, কখনও ছিল না। কেউ যদি কারও জন্য তদবির করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।’