শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

তেলের মেঘনার নজর এবার বিদ্যুতে

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার, ০৮:৫৮ পিএম

তেলের মেঘনার নজর এবার বিদ্যুতে

তেল বিপননকারী সংস্থা মেঘনা পেট্রোলিয়ামের নজর এখন ভিন্ন ব্যবসায়। চট্টগ্রামে সদরদপ্তর থাকা এই রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানি খুলনায় গিয়ে বানাতে যাচ্ছে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এলপিজি বিদ্যুৎ কেন্দ্র । ৮শ‘ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে মেঘনার সঙ্গে যৌথ অংশীদার থাকছে চায়না পাওয়ার কোম্পানি। 

শুধু তাই নয়, ঢাকার মতিঝিলে সাড়ে ২২ কাঠা জমিতে একটি বহুতল ভবন তৈরির কথাও ভাবছে তারা।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ-আল-খালেদ বলেন, "বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এখন প্রস্তাবটি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হবে এলপিজি ভিত্তিক (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস)। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে একটি বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়নে আট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চীন বিদ্যুৎ সংস্থা এই বিদ্যুত কেন্দ্রের ৫০ শতাংশের মালিকানা পাবে।

এছাড়া ঢাকার মতিঝিলে সাড়ে ২২ কাঠা জমির উপর একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও করছে।

সংস্থাটি অটোমেশনের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম আধুনিকীকরণের ফ্লোরা লিমিটেড নামে একটি সফটওয়্যার ফার্মের সাথে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।

রাষ্ট্রাযাত্ত দুটি সংস্থা বিএম এনার্জি (বিডি) এবং পেট্রোম্যাক্স এলপিজি লিমিটেডে এলপিজি অটোগাস রিফুয়েলিং সুবিধা থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির মাধ্যমে ভালো রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে মেঘনা। সংস্থাটি এই ব্যবস্থার জন্য একটি পয়সা বিনিয়োগ না করে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলিতে বিক্রি করতে প্রতি লিটার তরল জ্বালানী থেকে এক হাজার ৫০ টাকা রয়্যালটি অর্জন করবে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম ইতিমধ্যে বিএম এনার্জি (বিডি) এবং পেট্রোম্যাক্স এলপিজির সাথে দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে তার শেয়ারহোল্ডারদের অবহিত করেছে।

বর্তমানে সরকারের তিনটি তেল সংস্থা (পদ্মা তেল, যমুনা তেল, এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম) সারা দেশে এলপিজি, বিটুমিন এবং লুব্রিক্যান্ট সহ পেট্রোলিয়াম পণ্য বিপননের দায়িত্বে আছে। এছাড়া বিপি, লুকাইল এবং ক্যাসট্রোল ব্রান্ডের  লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করত মেঘনা।

এই তিনটি সংস্থা ২০১৮-১৯ অ অর্থবছরে মোট ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি করেছে। এর মধ্যে মেঘনা একা বিক্রি করে ২৩ কোটি ২৭ লাখ টন।  জেট ফুয়েল বাদ দিয়ে কোম্পানির বাজার অংশ ছিল ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মধ্যে কোম্পানির বিক্রয় ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে নিট মুনাফা বেড়েছে ৮৭ শতাংশ।

গত অর্থবছরে কোম্পানি ৬৬৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আয় করেছে, এর মধ্রে নেট লাভ ৩৭৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম তার শেয়ারহোল্ডারদের বিগত অর্থবছরে দেড়শ‘ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে। গত ৫ বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের শতভাগ নগদ শতাংশ প্রদান করে আসছে।