বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে সানোফির কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১২:০৯ পিএম

উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে সানোফির কর্মীদের

আতংক পিছু ছাড়ছে না সানোফি বাংলাদেশের কর্মীদের। প্রতিষ্ঠানটির দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই চাকরি হারানোর আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। সানোফি বাংলাদেশের শীর্ষ নির্বাহীদের একের পর এক লুকোচুরি পর সরকার প্রতিষ্ঠানটির সম্পূর্ণ মালিকানা কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না কর্মীরা।


বর্তমানে সানোফি বাংলাদেশের ৫৪.৬৪ শতাংশ মালিকানা রয়েছে সানোফির হাতে। অবশিষ্ট শেয়ারের ২৫.৪ শতাংশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের এবং ১৯.৯৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিসিআইসি।


সানোফির দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা শেয়ার কিনে নিতে আগ্রহী বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে গত মাসের শেষের দিকে জানা যায় সানোফির ৫৪.৬৪ শতাংশ শেয়ারও কিনে নিতে আগ্রহী সরকার। এ লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথাও জানিয়েছিল সানোফি।


সানোফি বাংলাদেশ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এরই মধ্যে মানববন্ধন ও কর্মবিরতিও পালন করেছে সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। তবে কিছুদিন কর্মবিরতির পর সবাই আবারো কর্মক্ষেত্রে ফেরত যান। কেন সবাই তাদের প্রতিবাদ বন্ধ করলেন তা নিয়ে কেউ কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।


সানোফির হাতে থাকা শেয়ার সরকার কিনে নিচ্ছে, এমন খবরেও স্বস্তি পাচ্ছেন না কর্মীরা। তারা মনে করছেন, তাদের চাকরি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের চাকরি নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে। সানোফির সম্পূর্ণ শেয়ার সরকারের হাতে গেলেও পুরনো কর্মীদের অনেকেই ছাঁটাইয়ের শিকার হতে পারেন বলে আমরা আশংকা করছি। এছাড়া সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান হলে নতুন করে বেতনকাঠামো প্রণয়ন করা হবে নাকি আগের মতোই চলবে, সে বিষয়টি নিয়েও আমরা এখনও অন্ধকারে আছি।’


দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ শিল্পে কাজ করা এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গ্রাচুইটি বাবদ আমাদের প্রচুর টাকা পাওনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কাছে। আমরা আশংকা করছি এসব পাওনা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হতে পারে’।