সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০

মামলায় বাধাগ্রস্থ উন্নয়ন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার, ০৮:৪৮ এএম

মামলায় বাধাগ্রস্থ উন্নয়ন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার ৫ বছরে ৭৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নতুন করে পরিকল্পনাধীন আছে আরো ৪২ প্রকল্প। বাস্তবায়িত ৭৫ প্রকল্পের মধ্যে প্রকৌশল বিভাগের ৭টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ৪টি, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ১০টি, নগর পরিকল্পনায় ৪টি, সচিবালয় বিভাগের ১১টি, শিক্ষা বিভাগের ১৬টি, স্বাস্থ্য বিভাগে ১৪টি, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ৩টি, রাজস্ব বিভাগের ৫টি প্রকল্প রয়েছে। নতুন করে পরিকল্পনাধীন রয়েছে রোড প্রকল্প ১২টি, ড্রেনেজ প্রকল্প ৭টি, অন্যান্য প্রকল্প ২২টি। বাস্তবায়িত ৭৫ প্রকল্পের মধ্যে ডোর টু ডোর প্রকল্পটি ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর আন্দরকিলস্না পুরাতন নগর ভবনের কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চসিকের নির্বাচিত পঞ্চম পরিষদের গৃহীত ও বাস্তবায়িত চার বছরের কর্মকান্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

একই সঙ্গে মামলার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে হতাশার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

মেয়র নাসির বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মামলার কারণে জর্জরিত। সিটি কর্পোরেশন চাইলে যে কোন কাজ করতে পারেনা মামলার কারণে। সিটি কর্পোরেশন এসব মামলা পরিচালনা করবে নাকি জনগনকে সেবা সেবা দেবে?”

তার অভিযোগ, এসব মামলা পরিচালনা করতে গিয়েই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজ বাধগ্রস্ত হচ্ছে।

নিজের নির্বাচনী ইশতেহার মাথায় রেখে ‘সত্যিকারের গ্রিন, ক্লিন সিটি’ তথা আধুনিক নগরের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান আ জ ম নাছির।

তিনি বলেন, “জনদুর্ভোগ দুর করতে রাতে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ১৯৭২ জন পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সত্যিকারের ক্লিন সিটি গড়তে হলে নগরবাসীকে সচতেন হতে হবে। গণমাধ্যমও পালন করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।”

তিনি বলেন, নগরীতে ৮০ ভাগ এলাকা আলোকায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ছাড়াও ১ হাজার ৩০৪ কিলোমিটার সড়কে ৬৪ হাজার ৬৮৩টি এলইডি বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভূমির মালিকদের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে ১২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ ফুট প্রস্থ ও ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খননের কাজ চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মেয়র।

নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “৫৬০ কিলোমিটারের পিচঢালা সড়ক ৮১৬ কিলোমিটারে, ২২২ কিলোমিটারের কনক্রিট সড়ক ৩২৮ কিলোমিটারে, ৬৮৩ কিলোমিটার পাকা নালা ৯৪৬ কিলোমিটারে, ১৪৬ কিলোমিটার ফুটপাত ২৮৭ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে।”

নগরীর কাজীর দেউড়ি শিশুপার্ক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, “সেনাবাহিনী জায়গাটি শিশুপার্ক করার জন্য চসিককে দিয়েছিল। শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চসিকের চুক্তিটা নবায়নযোগ্য। তাদের আধুনিক রাইডের শর্ত দিয়েছি। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তারা আধুনিক রাইড সংগ্রহ করছে।”

নগরীতে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র নেই জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, নগরীতে কোন শিশু পার্ক নেই। শিশুদের পর্যাপ্ত জায়গা বা খেলাধুলা করার মাঠ নাই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যে কয়েকটি পার্ক ছিল তার মধ্যে কর্ণফুলী পার্ক মামলার কারণে বন্ধ রয়েছে। স্বাধীনতা পার্কটি জনবল সংকটের কারণে তৎকালীন সিটি মেয়র মনজুর আলম মেয়র থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে দেন। যার কারণে কাজীর দেউড়ি শিশু পার্ক ছাড়া আর কোন পার্ক নেই শিশুদের জন্য। সেনাবাহিনী জায়গাটি শিশুপার্ক করার জন্য চসিককে দিয়েছিল সেই সময়ে। সেসময়ে শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চসিকের যে চুক্তি সেটা নবায়নযোগ্য, তাই আমার মেয়াদে সেটির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার নবায়ন করা হয়েছে। যারা পার্কটি পেয়েছে তাদের আধুনিক রাইডের শর্ত দিয়েছি। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তারা আধুনিক রাইড সংগ্রহ করছে। কাজেই এতে সমালোচনা করার যুক্তি কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সব কিছুতেই পরনির্ভরশীল। আমাদের একজন ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, তিনি কোথাও গেলে তার সাথে পর্যাপ্ত পুলিশ যেতে হয়। অনেক সময় আবেদন করেও পুলিশ পাওয়া যায় না, পুলিশেরও সুবিধা অসুবিধা থাকতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম প্রমুখ।