রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

বিমানে আসছে এস আলমের পেঁয়াজ

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৮:৪২ এএম

বিমানে আসছে এস আলমের পেঁয়াজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো চক্রান্ত আছে কিনা সরকার তা খুঁজে দেখতে চায়।

তিনি বলেন, “পেঁয়াজের দাম এখন একটা সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে... এটা সত্য যে বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু আমি জানি না আমাদের দেশে কেন অস্বাভাবিকভাবে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এ দাম বৃদ্ধির পেছনে কারো চক্রান্ত আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে চাই।”

শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, চিন্তার কারণ নেই।প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশের পেঁয়াজের দাম কমিয়ে আনতে বিদেশ থেকে কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করছে।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, “এ সমস্যার সমাধান করতে আমরা কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করছি। পেঁয়াজ ভর্তি বিমান রোববার বা তার পরের দিন দেশে এসে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, চিন্তার কারণ নেই।”

আড়তে ১৯৮ টন নতুন পেঁয়াজ

পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতার মধ্যে  শনিবার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে ১৯৮ টন পেঁয়াজ এসেছে। এর মধ্যে চীন ও মিশর থেকে আনা ১১৪ টন পেঁয়াজ বন্দরে খালাস হয়েছে এবং মিয়ানমার থেকে আসা ৮৪ টন পেঁয়াজ বন্দরনগরীর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর খাতুনগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড় থেকে ২০ টন পচা পেঁয়াজ সরাতে হয়েছে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুদামে পচে যাওয়ায় খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আয়াছ উদ্দিন এসব পচা পেঁয়াজ ফেলে দিয়েছেন। তিনি মিয়ানমার থেকে ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিলেন। এরমধ্যে প্রায় ৩০ টন পেঁয়াজ পচে গেছে।  শনিবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আমদানিকারক আয়াছ উদ্দিন জানান, মাছ ধরার ট্রলারে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। মূলত এসব ট্রলার আমদানি ভোগ্যপণ্য বহনযোগ্য নয়। উপরে ত্রিপল ঢেকে পেঁয়াজ আনতে হচ্ছে। আয়াছ বলেন, আমি ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিলাম। প্রায় ১২দিন সাগর পথ পাড়ি দিয়ে পেঁয়াজ বহনকারী ট্রলার ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর আগে বন্দরে পৌঁছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় আরো ৩/৪দিন পেঁয়াজগুলো ট্রলারে ছিলো। এরমধ্যে বৃষ্টির পানিতে এসব পেঁয়াজ ভিজেছে। খাতুনগঞ্জে গুদামে আনার পর এ কয়দিনে প্রায় ৩০ টন পেঁয়াজ পচে গেছে।

বিমানে প্রথম চালান আসবে মঙ্গলবার

দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে মিশর থেকে কার্গো বিমানযোগে পেঁয়াজ আমদানির যে ঘোষণা দিয়েছে সরকার তার প্রথম চালান মঙ্গলবার ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

শনিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এস আলম গ্রুপ বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করছে, এটি তার প্রথম চালান। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য আমদানি কারক দের আমদানিকৃত পেঁয়াজ কার্গো উড়োজাহাজ যোগে ঢাকায় পৌছাবে।”

এর আগে শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

সেখানে আরও বলা হয়েছিল, সমুদ্র পথেও আমদানিকৃত পেঁয়াজের বড় চালান বাংলাদেশের পথে রয়েছে, যা অতিশিগগিরই দেশে এসে পৌঁছাবে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিসিবি’র মাধ্যমে সরাসরি তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজযোগে পেঁয়াজ আমদানি করছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজ পরিবহনে কয়েকদিনের জন্য সমস্যা হয়েছিল।

কেউ পেঁয়াজ অবৈধ মজুত করলে, কারসাজি করে অতি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে বা অন্য কোনো উপায়ে বাজারে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃ্খংলা বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।

ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে দেয়ার পর বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। পাশাপাশি মিশর ও তুরস্ক থেকেও এলসি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞতিতে বলা হয়, আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানি ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। স্থল ও নৌ বন্দরগুলোতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ  দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দেশে পেঁয়াজের দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ট্রাক সেলে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ৩৫টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে।

এছাড়াও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিম ঢাকার শ্যামবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারগুলোতে অভিযান জোরদার করেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা আশা করছেন, খুব কম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে এবং মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে।