রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রামে মিলাদুন্নবী জুলুছে জনস্রোত

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৮:১৬ পিএম

চট্টগ্রামে মিলাদুন্নবী জুলুছে জনস্রোত

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) এর জন্মদিন উদযাপনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রোববার পুরো চট্টগ্রাম যেন জুলুছের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল ১০টার দিকে দরবারে আলীয়া কাদেরিয়ার পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহর (মা.জি.আ)  নেতৃত্বে যখন জশনে জুলুছ বের হয় তখন শহরের আগ্রাবাদ থেকে চান্দগাঁও , কর্ণফুলী সেতু থেকে হাটহাজারী সড়কের বড় দীঘির পাড় পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে মানুষ আর মানুষ।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট প্রতি বছরের মত এবারও মিলাদুন্নবী উদযাপনে এই জুলুছ আয়োজন করে। জুলুছ হামদ, নাত, জিকির সহকারে মুরাদপুর, চকবাজার, আন্দরকিল্লাহ, চেরাগি পাহাড়, জিইসি মোড় হয়ে আবার জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাঠে এসে শেষ হয়। সেখানে জোহরের নামাজের পর দেশ জাতির সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ মুনাজাত করেন আল্লামা তাহের শাহ (মা.জি.আ.)।

জুলুসের বিশেষ গাড়িতে হুজুর কেবলার সঙ্গে ছিলেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ (মজিআ), আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উপদেষ্টা, পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক সুফি মিজানুর রহমান, আনজুমানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মো. আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি মো. সামশুদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি সিরাজুল হক প্রমুখ।

ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুছকে ঘিরে প্রতি বছরই চট্টগ্রামজুড়ে রাসুলপ্রেমি লাখো মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম মহানগরী, বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে লাখ লাখ মানুষ ফজরের নামাজের পর থেকে জুলুছে আসতে থাকেন। যে কারণে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত জুলুছের নগরীতে পরিণত হয়। দুপুরে যখন জুলুছ শেষ হয়ে সমাবেশস্থলে আসে তখন ষোলশহর জুলুছ মাঠ, জামেয়া আহমদিয়া মাদ্রাসা মাঠ, আশপাশের বিভিন্ন ভবন ও রাস্তার যতদূর চোখ যায় দেখা যায় মানুষ আর মানুষ।

জুলুছের আয়োজক আনজুমান কর্তৃপক্ষের দাবি, এবারের জলেুছে ৬০ লাখের বেশি নবীপ্রেমি জনতা শামিল হয়েছেন। তাদের মতে, এটি সারা বিশ্বে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বৃহত্তম জশনে জুলুছ। 

তবে এবারের জুলুছে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেশি জনসমাগম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাদের মতে দরবারের সাজ্জাদানশীন আল্লামা তাহের শাহ (মা.জি.আ.) শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত দুই বছর জুলুছে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসতে পারেন নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার হুজুর কেবলাকে পেয়ে ভক্ত মুরিদানগণ ছিলেন স্বাভাবিকভাবে উদ্বেলিত। তাই জনসমাগম অতীতের চেয়ে বেশি।

সূত্র জানায়, বৃহত্তম এই জশনে জুলুছের জনসমাগম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে এবার বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে লাইভ ভিডিও ক্যামেরায় ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যেমে জুলুছের জনসমাগম সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।