রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

বুলবুলের আঘাত, গতি ১২০ কিলোমিটার

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার, ১০:৪৬ পিএম

বুলবুলের আঘাত, গতি ১২০ কিলোমিটার

আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অংশে আঘাত হানতে শুরু করেছে। একই সাথে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ ফুট পানির উচ্চতা।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ সুন্দরবনের বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর, মেহের আলীর চর, অফিসকিল্লা, মাঝেরচর, আলোরকোল, মরণেরচরে আছড়ে পড়েছে। ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রেমেই বাড়ছে ঝড়ের তীব্রতা। তছনছ করে দিয়েছে দুবলার চরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) দুবলারচর ভিএইচএফ স্টেশনের অপারেটর মো. কাশেম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দুবলারচর ভিএইচএফ স্টেশনের অপারেটর আরও জানান, বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দুবলারচরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী এলাকার আলোরকোল, মেহেরআলীর চর, মাঝেরকেল্লা, অফিসকিল্লা ও শেলারচরে ২২ বছর আগে নির্মিত হওয়া জরাজীর্ণ ৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে ৬ হাজারেরও বেশি জেলেরা আশ্রয় নিতে পেরেছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান সংকুলন না হওয়ায় শুঁটকি পল্লীসহ ঝড়ের কারণে সাগর থেকে আসা আরো কয়েক হাজার জেলে নৌযানে করে ছোট-ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। ঝড়ের তীব্রতা বাড়ায় নৌযানে করে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নেয়া জেলেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ ও সাগরদ্বীপ হয়ে স্থলভাগে ঢুকে পড়ে ওই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এর পর সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বুলবুল।  তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার গোটা প্রক্রিয়াটি শেষ হবে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তার পর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের খেপুপাড়ার দিকে।

স্থলভাগে ঢোকার সময় তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারের আশেপাশে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় কিছুটা শক্তি হারিয়ে ফেরবে বুলবুল। ইতিমধ্যে স্থলভাগে ঢোকার পরেই অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় থেকে শুধুমাত্র ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে সে।