বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

শিশু তুহিনকে কোলে করে আনেন বাবা, খুন করেন চাচা

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:১৯ পিএম

শিশু তুহিনকে কোলে করে আনেন বাবা, খুন করেন চাচা

‘ঘুমন্ত শিশুটিকে বাবাই কোলে করে বাইরে নিয়ে যায়। বাবার কোল নিরাপদ, তাই তখনও শিশুটির ঘুম ভাঙ্গেনি। এরপরই শিশুটিকে জবাই করে হত্যা করা হয়।’

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে শিশু তুহিনকে হত্যার বর্ণনা এভাবেই দেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বাবা ও চাচা। হত্যার ঘটনায় সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তুহিনের চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। আদালতে হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেন তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আরও বলেন, রোববার রাত আড়াইটার দিকে বাবা আব্দুল বাছির তুহিনকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে যান। পরে চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার তুহিনকে খুন করেন। পরে তুহিনের কান ও লিঙ্গ কেটে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনা তুহিনের বাবার সহযোগিতায় হয়েছে। এ ঘটনায় তুহিনের বাবাও জড়িত। তার সামনেই শিশু তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় তুহিনের বাবাসহ থানায় নিয়ে পাঁচজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই তুহিনকে খুন করা হয় বলে পুলিশকে জানান বাবা ও চাচা।

সোমবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, শিশু তুহিন হত্যায় পরিবারের লোকজন জড়িত। তুহিন হত্যাকাণ্ডে তার পরিবারের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। তুহিনকে কেন মারা হয়েছে, কীভাবে মারা হয়েছে, কয়জনে মেরেছে পুরো ঘটনা জানা গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলব না। তবে শিগগিরই আদালতের মাধ্যমে পুলিশ রেকর্ড দিয়েই আসামিদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তাদের আদালতে নিয়ে জবানবন্দি নেয়া হয়।

‘বাবা হিসেবে আমারও খুব খারাপ লেগেছে’ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগঘন এমন মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে যখন হত্যা করা হয় তখনও ঘুমেই ছিল। ঘুমন্ত শিশুকে তার বাবা কোলে করে ঘর থেকে বের করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই শিশুটিকে জবাই করে হত্যা করে তার বাবা ও চাচারা।’
‘জবাই করার পর তার কান কাটা হয়, লিঙ্গ কাটা হয়, পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ছুরি দুটিতে প্রতিপক্ষের লোকদের নাম লেখা ছিল।’
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির বাবা শুধু এটিই নয়, আরো হত্যা মামলার আসামি।