বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

আগ্রাবাদে `বন্দুকযুদ্ধে‘ যুবলীগ নেতা নিহত

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার, ০৯:১৮ এএম

আগ্রাবাদে `বন্দুকযুদ্ধে‘ যুবলীগ নেতা নিহত

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঠানটুলী ওয়ার্ড যুবলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট খোরশেদ আলম নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ মিডিয়া উইং মাশকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘খোরশেদ আগ্রাবাদ এলাকায় যুবলীগ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতো।তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা থাকলেও বারবার পুলিশের হাত থেকে পালিয়েছে সে।একাধিকবার কারাগারে গেলেও জামিনে বেরিয়ে বারবার অপরাধ করেই যাচ্ছিল। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গেলে আমাদের সাথে গুলি বিনিময় করলে খুরশেদ গুলিবিদ্ধ হয়।পরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।’

জানা গেছে,গত ১৮ আগস্ট নগরের আগ্রাবাদের বিভিন্ন শিপিংহাউজ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালালে তিনি পুলিশের উপর উল্টো হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান। এর আগে তিনি দুইবার পালিয়েছিলেন। নগর যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় খোরশেদ ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করছেন—এমন অভিযোগ করেন এলাকার লোকজনেরা। তবে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করত না।

সদরঘাট থানার ওসি ফজলুর রহমান ফারুকী জানান, খোরশেদ পেশাদার সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে এলাকার লোকজনের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। নিহত খোরশেদের বিরুদ্ধে পুলিশ সোর্স মান্নান হত্যা মামলাসহ ৮টি মামলার তথ্য প্রাথমিকভাবে  নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত খোরশেদ পাঠানটুলী ওয়ার্ড যুবলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এক সময় ২৮নং পাঠানটুলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের ঘনিষ্ট হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। বছর দুয়েক আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর থেকে খোরশেদ আলাদা বলয় তৈরি করেন। কাদেরকে ঠেকাতে কমার্স কলেজ কেন্দ্রিক টিপুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ গড়ে ওঠে। এ গ্রুপটি কাদেরের অনুসারীদের সাথে টিকতে না পেরে খোরশেদের শরণাপন্ন হয়। পরে খোরশেদ-টিপু জোটবদ্ধ হয়ে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাদেরকে ঠেকাতে প্রস্তুতি নিতে থাকেন। একই সাথে এলাকায় টেন্ডার, চাঁদাবাজির একচ্ছত্র অধিপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দল ভারি করতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩০ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে আরেক পেশাদার সন্ত্রাসী গোলাম সরওয়ার প্রকাশ হামকা মিলনসহ ১০-১৫ সহযোগী নিয়ে মনির হোসেন মান্নান নামে এক ব্যক্তির হাত বিচ্ছিন্ন করে কুপিয়ে হত্যা করে খোরশেদ। মান্নান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে খোরশেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মান্নানকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহটি সড়কের পাশে ফেলে দেয়।
খোরশেদকে গ্রেপ্তার করার পর তার কাছে হত্যায় ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল পাওয়া যায়। এ হত্যা মামলায় বেশ কিছুদিন কারাভোগও করেছেন খোরশেদ। এর আগেও একটি অস্ত্র মামলায় জেল খেটেছিলেন তিনি।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, পরোয়ানাভুক্ত খোরশেদ আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, শেখ মুজিব রোড, চৌমুহনী পাঠানটুলি রোড, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, কমার্স কলেজ রোড কাটা বটগাছ, জমির উদ্দিন লেন, মোগলটুলি বাজার, বার কোয়ার্টার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতেন তিনি।