শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

সম্রাটের টাকা কোথায়

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার, ০৮:২৭ এএম

সম্রাটের টাকা কোথায়

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ইতিপূর্বে যুবলীগ নেতা খালিদ ও জি কে শামীমের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করা হলেও সম্রাটের কাছে বড় অংকের নগদ টাকার কোনও সন্ধান পাননি র‌্যাবের সদস্যরা।  জুয়াকাণ্ডের ‘নেপথ্যের কারিগর’ হিসাবে আলোচিত ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ও কিছু ইউএস ডলার পাওয়া গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে সম্রাটের টাকো গেল কোথায়?

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে রবিবার (৬ অক্টোবর) ভোরে গ্রেফতারের পর সম্রাটকে ঢাকায় আনা হয়। এদিন দুপুর থেকে একযোগে তল্লাশি চলে তার কার্যালয় এবং শান্তিনগর ও মহাখালীর বাসায়। তিনটি স্থান থেকে মদ, ইয়াবা ইত্যাদি জব্দ করলেও ক্যাসিনো থেকে উপার্জিত অর্থের কোনও সন্ধান পায়নি র‌্যাব।

র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সম্রাটের অর্থ ও সম্পদ সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সেগুলোর সন্ধান করা হবে।’

রবিবার (৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে কাকরাইলে সম্রাটের কার্যালয়, মহাখালি ডিওএইচএস ও শান্তিনগরের বাসায় অভিযান চালায় র্যা ব।  কাকরাইল কার্যালয় থেকে ক্যাঙ্গারুর দু’টি চামড়াসহ একটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দু’টি বৈদ্যুতিক টর্চার মেশিন, ১৯ বোতল বিদেশি মদ ও একহাজার ১৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব।

মহাখালীর ডিওএইচএস-এর ২৯ নম্বর রোডের ৩৯২ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ কিছু পায়নি র‌্যাব। অভিযান পরিচালনাকারী র্যা ব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় আমরা অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কিছু পাইনি।’

শান্তিনগরের বাসা থেকেও মোটা অংকের কোনও টাকা পাননি র‌্যাব সদস্যরা। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক সাফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, ‘শান্তিনগরের বাসাটি ছিল সম্রাটের ভাইয়ের। ওই বাসা থেকে ৫০ হাজার ৬০০ টাকা, ১৬০০ ইউএস ডলার, ৪ হাজার ১০০ ইন্ডিয়ান রুপি, ৩শ’ ৩২ সিঙ্গাপুরি ডলার, ৩০ পিস জুয়েলারি, চারটি চেকবই, একটি নোটপ্যাড, একটি আইপ্যাড, চারটি ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃতরা তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, যুবলীগ নেতা সম্রাটের হাত ধরেই রাজধানীর ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো শুরু হয়। তিনিই নেপথ্যের কারিগর। আর এই ক্যাসিনো থেকে আসা অবৈধ অর্থের একটা অংশ নিয়মিত পেতেন সম্রাট। এ ছাড়া, কয়েকটি ক্লাব সম্রাট নিজেই পরিচালনা করতেন।