মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর এক খোঁচায় পেঁয়াজে সুবাতাস

প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার, ০৮:০৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর এক খোঁচায় পেঁয়াজে সুবাতাস

কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের বাজার ভীষণ গরম। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে পার হয়ে যায় সেঞ্চুরি। আর সেটা এমন সময়ে ঘটল যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন ভারত সফরে।

শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসতে হাসতেই মন্তব্য করেছিলেন,  তিনি তার রাঁধুনীদের বলে দিয়েছেন যেন পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করা হয়। তার এ কথায় হাসির রোল পড়ে যায় অনুষ্ঠানস্থলে।

বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে হিন্দি ভাষায়ই বলেন, পেঁয়াজ মে থোড়া দিক্কত হো গ্যায়া হামারে লিয়ে। মুঝে মালুম নেহি কিউ আপনে পেঁয়াজ বন্ধ কর দিয়া। ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ কারদো। (পেঁয়াজ নিয়ে আমাদের সামান্য সমস্যা হয়ে গেলো। আমি জানি না, কেন আপনারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমি আমার রাঁধুনীদের বলে দিয়েছি যে, এখন থেকে রান্না-বান্নায় পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও।)

ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পণ্য রফতানি বন্ধ করার আগে জানালে বাংলাদেশ পণ্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে।

তখন হলঘরে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগের প্রধান বিক্রম দোরাইস্বামী এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রিভা গাঙ্গুলি দাস (যিনি শেখ হাসিনার সফর উপলক্ষে এখন দিল্লিতে)।

তারা দুজনেই শেখ হাসিনার এই বক্তব্য প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছে দেন সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে। এরপরই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পেঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশের কনসার্ন অ্যাড্রেস করতে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু একটা করতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে ভারতের যে সিদ্ধান্ত তাতে তড়িঘড়ি করে কিছুটা শিখথলতা আনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কী বলেছেন, সেটা আমাদের চোখে পড়েছে। তার এই উদ্বেগ কীভাবে প্রশমিত করা যায়, কীভাবে এই কনসার্নটা অ্যাকোমোডেট করা যায়, তা আমরা দেখছি।’

পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা শিথিল করা যায় কিনা এবং সেটা কীভাবে ও কতটুকু করা সম্ভব, তা নিয়ে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

রবীশ কুমার এটাও জানাতে ভোলেননি, ‘বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির জন্য রবিবারের আগে যেসব এলসি খোলা হয়েছিল সেগুলোও কিন্তু আমরা এখন অনার করছি। সেই পেঁয়াজ বাংলাদেশে যেতেও শুরু করেছে।’

শনিবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের মুখোমুখি বৈঠকের পর পেঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সুখবর আসতে চলেছে, এরকমও ইঙ্গিত মিলেছে।