রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯

আনোয়ারায় পাহাড়ের ঢালে ধর্ষকের লাশ

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০১৯ রবিবার, ০৮:৩৩ পিএম

আনোয়ারায় পাহাড়ের ঢালে ধর্ষকের লাশ

আনোয়ারায় কেইপিজেডের নারীকর্মী ধর্ষণ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবদুন নুরের লাশ মিলেছে চায়না ইকোনমিক জোন সংলগ্ন পাহাড়ের ঢালে। রবিবার সকালে আনোয়ারা থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করে। তবে কিভাবে সে মারা গেল, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, সশস্ত্র দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুরিতে আবদুন নুরের মৃত্যু হতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক ,তিনটি চোরা ও চারটি কার্তুজ উদ্দার করা হয়েছে।  তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা সহ চারটি মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার (৩ জুলাই) রাতে আনোয়ারা ইপিজেডের একটি জুতা কারখানায় কাজ শেষে চন্দনাইশের নিজ বাড়ী ফেরার পথে কালাবিবি দীঘি চায়না ইকোনোমিক জোন এলাকার ধর্ষিত হন এক তরুণী। এ ঘটনায় সিএনজি চালকসহ ৪জন জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মেয়েটি পাঁচমাস ধরে একটি জুতার ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকের কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

শুক্রবার রাতে চাতরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪ অভিযুক্তের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করে। তারা  হলেন আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ এলাকার আনোয়ারা হোসেনের পুত্র সিএনজি চালক মো মামুন (১৮) ও পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ছনহরা গ্রামের  আবদুল গফুরের পুত্র  হেলাল উদ্দীন (২৮)। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীকে দু’জনই প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে আবদুন নুরের নাম জানায়। আবদুন নুরের সাথে তার আরেক বন্ধু মোহাম্মদ শহীদও ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে বলে তারা তথ্য দেয়।

প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, চাতুরী চৌমহনী বাজারে তারা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে দাড়িয়ে ছিল। যে কোন মেয়েকে একা পেলেই তারা ধর্ষণ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। সে অনুযায়ি তারা এই তরুণীকে (১৮) সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে  চোখমুখ বেঁধে চায়না শিল্প জোন এলাকায় নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করার পর ফেলে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্তার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অন্য দুইজনের উপর দায চাপানোর চেষ্টা করেছেন। গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ মামুন জানান, সিএনজি টেক্সিটি তিনি চালাচ্ছিলেন। বাঁশখালী যাওয়ার কথা বলে আবদুন নুর ও মোহাম্মদ শহীদ মইজ্যারটেক থেকে টেক্সিটি ভাড়া নেয়। হেলাল ছিল তার পাশে, সামনের সিটে। আবদুন নুর ও শহীদ ছিল পেছনের সিটে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টেক্সিটি চৌমুহনি বাজারের মোড়ে আসলে ওয়ান মাবিয়া মার্কেটের সামনে  ওই তরুণী ভাড়ার টেক্সি মনে করে সিগন্যাল দেন। এ সময় আবদুন নুর টেক্সি থামাতে বলে। চন্দনাইশ যাওয়ার জন্য ৩০ টাকা ভাড়া দরদাম করে মেয়েটিকে গাড়িতে তুলে নেয়।

টেক্সিচালক মামুনের দাবি, মূল রাস্তার পরিবর্তে গাড়িটি ইকোনমিক জোনের ভেতরের রাস্তায় নিতে বললে সে প্রতিবাদ করেছিল। শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

গ্রেফতার হওয়া আরেক আসামি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, মেযেটি আবদুন নুরের পায়ে পড়ে অনেক কান্নাকাটি করেছিল। সে পিরিয়ড অবস্থায় আছে বলেও জানিয়েছিল। তবুও আবদুন নুর তাকে ছাড়েনি। ছুরির ভয় দেখিয়ে সে ও তার বন্ধু শহীদ মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় মেয়েটি অনেক রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল।

কে এই আবদুর নুর

অভিযুক্ত আবদুন নুর আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মৃত আবদুস ছত্তারের পুত্র। আবদুর নূরও পেশায় একজন সিএনজি চালক। সে চালক সেজে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এলাকায় চুরি ছিনতাই, ধর্ষণ, মারামারি, ভূমি দখল, মাদক বিক্রি সহ সব ধরনের অপরাধ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে সে ছুরি , ছিনতাই, মারামারিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল।

তার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে  স্থানীয় আবু তাহের নামে এক ব্যক্তিকে  মারধর ও ছিনতাই,  ২০১৮ সালের ১৬ ই মার্চ বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা জাবেদ আলীকে শোলকাটা রাস্তার মাথা থেকে অপহরণ করে টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া,  গত রমজান মাসে চট্টগ্রাম শহর থেকে ঈদের কেনাকাটা করে স্বপরিবারে বাড়ী ফেরার পথে পশ্চিমচাল এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমকে বৈরাগ চায়না সড়কের মোড়ে ফকিরকিল এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা রয়েছে।