বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

সিলেটে সেতু ভেঙে রেল খাদে, নিহত ৭

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০১৯ সোমবার, ০৯:০৪ এএম

সিলেটে সেতু ভেঙে রেল খাদে, নিহত ৭

সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়,  সাতটি বগির মধ্যে দুটো ব্রিজের নিচে পড়েছে, লাইন থেকে ছিটকে পড়েছে দুটি। আর তিনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় রেলপথের একটি সেতু ভেঙে উপবন এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি খালে পড়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক সাত জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানিয়েছে, রাত ২টা পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি মৃতদেহ ছিল। এর একটি মস্তকবিহীন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬০ জন। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক আঘাত থাকায় ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক থেকে ভেতর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা আহতদের দেখতে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে পরিচিতদের খোঁজ করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে আসেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. শাহজালালসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঘটনাস্থল থেকে কুলাউড়া উপজেলার চেয়ারম্যান এ এক এম সফি আহমদ (সলমান) জানান, আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি কুলাউড়ার সাবেক পৌর মেয়রের ভাই আব্দুল বারির স্ত্রী বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, ঘটনাস্থলে ৫ জন ও কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বরমচাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক হুমায়ুন কবির জানান- কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন একটি ব্রিজে হঠাৎ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যায় এবং একটি বগি উল্টে যায়।

এতে ঘটনাস্থলে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং লাইনচ্যুত বগির যাত্রী ছাড়াও মারাত্মক ঝাঁকুনিতে অন্তত ২৫০ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

ট্রেনের যাত্রী ইয়াসিন আহমেদ জানান- কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন একটি ব্রিজে হঠাৎ লাইন ছিড়ে ট্রেনের ৫টি বগি খালে পড়ে যায় এবং একটি বগি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং লাইনচ্যুত বগির যাত্রী ছাড়াও মারাত্মক ঝাঁকুনিতে অন্তত ২৫০ যাত্রী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রেনটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিলো। তিনি জানিয়েছেন ঢাকা সিলেট মহাসড়কে তিতাস নদীর উপরে একটি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার কারণে সড়কপথে যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সেকারণে কয়েকদিন ধরে ট্রেনের উপরে বেশ চাপ রয়েছে বলে তিনি জানান।

কুলাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মালেক  বলেন, নিহতের কোন খবর পাইনি। শুনেছি ৩ জন লোক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে অনেক লোক আহত হয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

রোববার দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে উপবন এক্সপ্রেস ৭টি বগি নিয়ে কুলাউড়া স্টেশন ছেড়ে আসে। সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে এটির ঢাকায় পৌঁছে।  কুলাউড়া রেল স্টেশন মাস্টার আনসার উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত রেললাইনটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ একেবারে দুমড়েমুচড়ে গেছে। আপাতত ঢাকা থেকে কুলাউড়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সচল থাকবে।এর আগে কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকার বড়ছড়া খালের ওপর কালভার্টের কাছাকাছি আসলে উপবন এক্সপ্রেসের পেছনে থাকা ১০টি বগি সামনের ৭টি বগি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কালভার্টের ওপরে আসলে একটি বগি ছিটকে নিচে বড়ছড়া খালে পড়ে যায়। বাকি বগিগুলোর দুটি উল্টে পাশের জমিতে পড়ে যায়। বাকি ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশে পড়ে।