বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

কার গরু, কাকে বানায় চোর !

প্রতিনিধি, পটিয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০১৯ সোমবার, ০৯:১৭ পিএম

কার গরু, কাকে বানায় চোর !

আনোয়ারার গরু ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলামকে ‘মিথ্যা মামলায়’ পটিয়া থানায় নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গরু বিক্রি বাবদ পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো মামলা দিয়ে নির্যাতনের পেছনে পটিয়া থানা পুলিশের ‘অসৎ’ উদ্যেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন, অফিসার নাদিম, এসআই মো. আকতার হোসাইন, কালু আবু, মো. মাহমদুল হক আনোয়ারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার তৌহিদের পিতা আবদুর রাজ্জাক।  আবদুর রাজ্জাক নিজেও গরু ব্যবসায় সম্পৃক্ত।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন অবশ্য জানিয়েছেন, তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোন মিথ্যা মামলা হয়নি। তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার গরু চুরি মামলা দিয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়,  গরু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সাল (৩৮), হাজী মো. হারুনুর রশিদ (৪০), হাজী মো. মিয়া (৩৯), মোস্তাকিম মাহমুদ (৩৫), মো. তারেক হোসেন (৩৪) র্দীর্ঘদিন ধরে গরু ব্যবসায় জড়িত থাকায় একে অন্যের পরিচিত।  তারা গত ২৫ মে তারিখে ৫৮নং ভাউচার মূলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৌহিদুল ইসলামের পিতার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা মূল্যে ১৪ টি গরু কিনে পটিয়া উপজেলার জিরি আল-ওয়ালী এগ্রোতে নিয়ে যায়। ঈদের পরে গরুর টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। আল ওয়ালী এগ্রোর সাথে প্রায় চার বছর ধরে গরু বেচাকেনার ব্যবসা থাকায় রাজ্জাক বা তার ছেলে তৌহিদ তখন কোন আপত্তি করেনি।  

কিন্তু ঈদের এক সপ্তাহ পরও  গরুর মূল্য পরিশোধ না করায় রাজ্জাকের আরেক ছেলে মোহাম্মদ সাহেদের (২৪) সাথে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, গরু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা গরুগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে আল ওয়ালী এগো খামারের কেয়ারটেকার মো. ইসহাককে চোর সাজিয়ে নতুন তালবাহানা শুরু করে। গরুর মালিক তৌহিদকে চুরির আসামি বানিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে অমানষিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পটিয়া থানার মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে  ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জন্য স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন জানিয়েছেন মেসার্স রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুর রাজ্জাক।