সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

ফটিকছড়িতে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার, ০৮:৫৩ এএম

ফটিকছড়িতে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাংবাদিক সোলাইমান আকাশের ওপর হামলা চালিয়েছে এক দল দুর্বৃত্ত। চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদী`র ফটিকছড়ি প্রতিনিধি আকাশ উপজেলার আজাদী বাজার থেকে অনতিদুরে বাড়ি ফেরার পথে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায়।

সাংবাদিক আকাশের উপর হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে ন্যক্কারজনক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, সাংবাদিক আকাশ বাজার থেকে প্রতিদিনের ন্যায় ব্যক্তিগত  কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৭/৮ জনের মুখোশ পরিহিত  দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই লোহার রড় ও লাঠি দিয়ে তাকে বেদম প্রহার করে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তের দল পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তের আঘাতে তার বাম পা চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে যায় এবং একটি হাত ভেঙ্গে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা আকাশকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে চমেকে চিকিৎসাধীন আছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক আকাশ ফটিকছড়িতে সাহসী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। গত বছর খানেক আগে ফটিকছড়িতে এক সড়ক নির্মাণে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ কারায় প্রভাবশালী একটি মহলের ইশারায় আইসিটি অ্যাক্টের মামলায় তাকে আসামি করা হয়। তখন তার পক্ষে মাঠে নামে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সম্প্রতি কিছু সাহসী সংবাদ প্রকাশ করায় একটি প্রভাবশালী মহল ক্ষুব্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন হামলার শিকার সাংবাদিক আকাশ।

চমেক হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা শীলাব্রত বড়ুয়া বলেন, ফটিকছড়ি থেকে গুরুতর আহত আজাদীর সাংবাদিক আকাশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়েছে। বাম পা ভেঙে গেছে।

আপোষহীন সাংবাদিক আকাশের উপর হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজীসহ সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।