বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯

পটিয়ায় বৈশাখী মেলায় গিয়ে তরুণী ধর্ষিত

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার, ১০:৩৭ পিএম

পটিয়ায় বৈশাখী মেলায় গিয়ে তরুণী ধর্ষিত

পটিয়ায় বৈশাখী মেলায় বেড়াতে এসে প্রতারক প্রেমিকের হাতে ধর্ষনের শিকার হয়েছে এক তরুণী। রোববার (১৪ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৫টায় তরুনীকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তবে কোথায় ঘটনাটি ঘটেছে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) তে স্থানান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) জসিম উদ্দীন সারাবেলাকে বলেন, কোন স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তরুণী ধর্ষণ হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে প্রাপ্ত তথ্য মতে সম্ভাব্য স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের এক তরুণী পৌরসদরের বিসিক শিল্পনগরীতে গার্মেন্টসে চাকরি করতো। রোববার প্রতারক প্রেমিকের কথায় পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বেড়াতে যায়। মেলা থেকে ফেরার পথে সিএনজি যোগে তরুণীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় প্রেমিক। সেখানে ধর্ষনের শিকার মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা বিকের ৫টার দিকে উদ্ধার করে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।  এ সময় তার মারাত্মক রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিজুয়ানুল হক জানান, কয়েকজনে মিলে অজ্ঞান অবস্থায় ওই তরুণীকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।  অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেক হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করা হয়।

তরুণীটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে রিপন নামের এক গাড়ি চালকের সাথে তার বোনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাধে রোববার বৈশাখী মেলায় যাওয়ার কথা বলে তরুণীকে ডেকে নিয়ে যায় রিপন। বিকেলে খবর পায় তার বোনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তরুণীটির জ্ঞান না ফেরায় বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।  ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত)  হেলাল উদ্দীন ফারুকী জানায়, গার্মেন্টস কর্মী ধর্ষনের শিকার হওয়ার বিষয়টি পুলিশ হাসপাতাল থেকে জানতে পেরেছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলছে।

পটিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বাবলু দাশ জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিনজন মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পটিয়া সরকারি মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে এলে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ইনজামুল হক জসিম জানান, কচুয়াই এলাকার একটি ছেলের সাথে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার ধর্ষনের খবরটি তিনিও শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থল কোথায় সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি।