বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

রাঙ্গুনিয়ার সালাম মেম্বারের এত ক্ষমতা !

প্রতিনিধি, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার, ১০:২৫ পিএম

রাঙ্গুনিয়ার সালাম মেম্বারের এত ক্ষমতা !

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ফুলবাগিছা এলাকায় মোবাইল চুরির একটি ঘটনার পর চোরের পক্ষ এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম আবদুস সালাম। তিনি রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ফুলবাগিছা এলাকার বাসিন্দা হাফেজ ইসহাক গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছুটিতে আসেন। তিনি আমিরাতের আল আইনে একটি সরকারি মসজিদের পেশ ইমাম। দেশে এসে বাড়ির সংস্কারকাজে হাত দেন। রোববার ঘরে টাইলস লাগানের সময় টাইলস-মিস্ত্রি কাদের ও সুজন হাফেজ ইসহাকের ভাগিনার একটি দামি মোবাইল ফোন সরিয়ে ফেলে। পরে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে মাসুদের কাছ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়।

এরপর সোমবার দুপুরে স্থানীয় সালাম মেম্বার হঠাৎ তার কার্যালয়ে জরুরি ‘তলব’ করেন হাফেজ ইসহাককে। হাফেজ ইসহাক গিয়ে দেখতে পান মেম্বারের কার্যালয়ে আগে থেকে রাজারহাট রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) এর ইনচার্জ এসআই আতিক এবং দুই মোবাইল চোর বসে আছে।

তাদের উপস্থিতিতেই মেম্বার সালাম টাইলস মিস্ত্রি মাসুদের পকেট থেকে ইসহাকের ভাগিনা ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে দাবি করে সেই টাকা এখনই দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। মেম্বারের এমন বিচারে হতভম্ব হাফেজ ইসহাক।

ইসহাক মেম্বারের দাবিমত ১০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে  এসআই আতিকের সামনেই হাফেজ ইসহাককে লাঠি দিয়ে  মেম্বার সালাম নিজেই পেটাতে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ইসহাককে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।  তার ঘাড়, কোমড়, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ওসি আহসানুল কাদের ভূঁইয়া ইমতিয়াজ  বলেন, একজন মাওলানার সঙ্গে সালাম মেম্বার যে আচরণ করেছে তা দুঃখজনক। বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। থানায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া আছে। ভুক্তভোগী চাইলে যে কোনো সময় মামলা হতে পারে।

নির্যাতনের শিকার হাফেজ ইসহাক বলেন, বিনাকারণে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে।  মামলা করতে থানায় গিয়েছিলাম।  সমঝোতার কথা বলে সালাম মেম্বারের লোকজন আমাকে থানা থেকে নিয়ে । সমঝোতার কথা বলা হচ্ছে। এখন দেখি সালাম মেম্বার বিষয়টি কীভাবে সমাধান করে।

সালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।