বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯

কর্ণফুলীতে ছাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় অবরোধ-বিক্ষোভ

প্রতিনিধি, কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার, ০৭:৪৬ এএম

কর্ণফুলীতে ছাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় অবরোধ-বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার  মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার এজে চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় হিউম্যান হলার (লেগুনা) গাড়ি চাপায় এক স্কুল ছাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। এ সময় ব্যস্ততম এই সড়কে ৩ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী দুর্ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি  অবিলম্বে স্কুল এলাকায় স্পিডব্রেকার দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা চালান।

আহত ছাত্রীর নাম নাজমা আকতার (১৪)। সে কর্ণফুলীর শিকলবাহা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের কন্যা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজ বাজার এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্কুল ছাত্রী নাজমা মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

আহত ছাত্রী নাজমা আকতার উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা শংকামুক্ত বলে জানা গেছে।

পৌনে ১০টা থেকে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করলে সা ৩ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।  বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি মেনে নেয়া হলে মহাসড়কে থেকে সরে যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। অবরোধ চলাকালে আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা ১০-১৫টি ছোট বড় গাড়ি ভাংচুর করে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। অবরোধের কারণে শিকলবাহা কলেজ বাজার এলাকা থেকে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলে রোগীসহ হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী সামলা আকতার রেশমী জানায়, তারা এক সাথে পাঁচজন ছাত্রী স্কুলের যাওয়ার জন্য সড়ক পার হচ্ছিলেন। চারজন সড়কের এক পাশ পার হয়ে ডিভাইডারে পৌঁছাতে পারলেও কেউ একজন নাসমাকে পেছন থেকে ডাক দেয়। এতে নাসমা পেছনে তাকাতে গেলে দ্রুত গতির লেগুনাটি তাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির সামলে ফেলে দেয়।

অবরোধ শুরুর ঘণ্টা খানেক পর ঘটনাস্থলে কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, ভাইস চেয়ারমান দিদারুল ইসলাম, শিকলবাহা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লোকজন শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু তারা সরে না গিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কলেজবাজার এলাকায় ওভারব্রিজ নির্মাণ, ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা এবং সিপড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানায়। পরে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এজে চৌধুরী ডিগ্রী কলেজে। প্রায় ঘণ্টা খানেক বৈঠকের পর বেলা সোয়া ১টার সময় দাবি মেনে নিয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ করলে শিক্ষার্থীরা সরে যায়।

কর্ণফুলী থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ বলেন, স্কুল ছাত্রী নিহতের খবর পুলিশের কাছেও আসে। কিন্তু এটি ছিল গুজব। কিন্তু কারা ছড়িয়েছে তা আমরা নিশ্চিত করা যায়নি। স্কুল ছাত্রী নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্কুল শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করে পরিস্থিতি শান্ত রাখা হয়।